মানবতার প্রতীক মিশা-জায়েদ

পৃথিবী নামক এই গ্রহে মানুষের জন্য বেঁচে থাকা আজ সত্যিই দুঃসহ হয়ে উঠেছে। কি এক অদৃশ্য শত্রু সব সময় তাড়িত করে চলেছে। মানুষ আজ সত্যিই অসহায়-প্রকৃতির কাছে। এই সমাজের মধ্যে যারা দরিদ্র্য বা গৃহহীন রয়েছেন, তাদের জন্য তো বেঁচে থাকা প্রতিটা মুহূর্ত লড়াই করছে।সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশে এসে উপস্থিত হয়েছে জীবনঘাতী ভাইরাস কোভিড-১৯। করোনা ভাইরাস যার প্রচলিত নাম। বাংলাদেশের মতো বসতিপূর্ণ একটি দেশে এর ভয়াবহতা রোধ নিশ্চই সরকারের একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সম্ভব বলে কেউ স্বীকার করবেন বলেও মনে হয় না! সুতরাং সকলের সহযোগিতা অবশ্যই দরকার। ইতোমধ্যে দেশের বড় বড় বণিকশ্রেণী তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।কেউ কেউ নিজের মানবিক তাড়নায় কিছু করছেন।সারা পৃথিবীজুড়ে বিনোদন জগতের মানুষগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, আর যাবেন-ই বা না কেন? পুরো মানব সভ্যতার অস্তিত্বের প্রশ্ন বলে কথা। এখন প্রশ্ন হতে পারে আমার দেশের শিল্পীরা বা শোবিজ তারকারা দেশ ও জাতির জন্য কি করছেন? সত্যি বলতে কী এই মাধ্যমের মানুষেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে যা করছেন, তাতে কেউ কেউ তার নামের সুবিচার করতে পারেননি। আবার কেউ কেউ পেরেছেন। যেমন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান মানুষের এই ক্রান্তিকালে অনেক বড় অবদানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
করোনার প্রকট আকার ধারন করার পর থেকেই তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকদফায় চলচ্চিত্রর আর্থিক ভাবে অসচ্ছল শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে মিশা-জায়েদ খানদের। কখনও চাল, ডালসহ অন্যান্য খাবার সাহায্য কখনও বা রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য নিয়ে। সবই করছেন বাড়ি থেকে বের হয়ে এফডিসিতে গিয়ে স্বশরীরে। কেন করছেন, কিভাবে করছেন এমন নানা কৌতূহলী বিষয় জানতে যোগাযোগ কারা হয় শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানের সঙ্গে।
সবাই যখন নিজেকে রক্ষা করতে ঘরবন্দি সে সময় মিশা সওদাগর, জায়েদ খান, মারুফ আকিব, জয় চৌধুরী, জেসমিন কিনা এখন রাস্তায় রাস্তায় কিংবা এফডিসিতে আর্থিক ভাবে অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সত্যিই অদ্ভুত এই পরিস্থিতি।কেন করছেন এসব? জানতে চাইলে শিল্পী সমিতির দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, মানুষই আমাকে মিশা সওদাগর থেকে শিল্পী মিশা সওদাগর বানিয়েছে। যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে বাঁচব কি মরবো তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যদি মরেই যাই আল্লাহর কাছে যেন বলতে পারি, আল্লাহ আমরা আমাদের সাধ্যমতো সকলের সহযোগিতায় চেষ্টা করেছি শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে।
মিশা সওদাগর আরও বলেন, ‘আমরা জানি না এই দুর্দিন কবে শেষ হবে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমাদের স্বল্প আয়ের যে অভিনয়শিল্পীরা আছেন ও কলাকুশলীরা। তারা বেশিরভাগই দৈনিক আয়ে চলেন। শুটিং আরও বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকতে পারে। অনেকেই বেকার হয়ে গেছেন এবং অনেকেই সামনে শুটিং বন্ধ থাকলে বেকার হয়ে যাবেন। আমাদের মধ্যে যারা সচ্ছল ও সামর্থ্যবান শিল্পী আছেন, তারা হয়তো এই দুর্যোগ সামলে নিতে পারবেন। কিন্তু যারা পারবেন না, আমরা তাদেরও সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে চাই। সে জন্যই সমিতিগত ভাবে আমাদের এ উদ্যোগ।’
সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য কেবল শিল্পীদের পাশে থাকা। বিশেষ করে, এই যে দুর্যোগ এর মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি শিল্পীদের পাশে থাকার। সবাই যখন বলছে, ঘরে থাকতে তখন আমার মন চাইছে আর্থিক ভাবে অসচ্ছল শিল্পীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। কাজ শেষে যখন বাড়ি ফিরি খেয়ে-দেয়ে বিছানায় যাই একটু ঠান্ডা বা গলাব্যথা অনুভব করলে মাঝে মাঝে ভয় পেয়ে যাই এই ভেবে ‘আমাকে কী ভাইরাসটা ধরে ফেলল’! তবুও বাসায় নিজেকে বন্দি করে রাখিনি।একজন নেতা হিসেবে এই দুর্দিনে শিল্পীদের পাশা থাকা আমার কর্তব্য। শিল্পীদের ভোটেই আজ সাধারণ সম্পাদকের পদে বসতে পেরেছি। তাই একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এবং একজন শিল্পী হিসেবে শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছি।জায়েদ খান আরও বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রের অবস্থা বর্তমানে খুব একটা ভালো নয়, অনেক শিল্পীই বেকার হয়েছেন। তাই অনেক শিল্পী এখন অসচ্ছল। তারপরও সাধারণ মানুষের মতো তারা হাত পাততে পারেন না মানুষের কাছে। কারণ, শিল্পীরা সব সময় আত্মসম্মান নিয়ে চলেন। আর্থিক ভাবে এই অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য খাবার, মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেক অসচ্ছল শিল্পীর বাসায় তা পৌঁছে দিচ্ছে সমিতি।’ এসময় শিল্পী সমিতির সঙ্গে একাত্বতা প্রকাশ করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন অভিনেতা ডিপজল ও অনন্ত জলিল।
চলচ্চিত্রের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অস্বচ্ছল কিংবা নিম্নআয়ের শিল্পীরা কষ্টে দিন যাপন করছেন। কয়েকদফায় অসচ্ছল এ শিল্পীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য দিয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। তারই ধারাবাহিকতায় আবারও বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ সকল আর্থিক ভাবে অসচ্ছল শিল্পীদের খাদ্যদ্রব্য দেয় শিল্পী সমিতি।এছাড়া শনিবার থেকে রমজান শুরু। অনেকেই রমজানে বাজার করতে পারবে না বলে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য শিল্পীদের বাসায় বাসায় পৌঁছে দিচ্ছেন শিল্পী সমিতি। এবং এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে শিল্পীদের সহযোগিতার জন্য আবেদন করেছেন। মিশা-জায়েদের নিজ স্বার্থে নয়, বরং তা শিল্পীদের স্বার্থে করেছেন।বৃহস্পতিবার ঘড়ির কাটায় যখন রাত ১১টা তখনও শিল্পী সমিতিতে শিল্পীদের নেতা মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান। সাথে ছিলেন কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফ আকিব ও জয় চৌধুরী। কারন একটাই শিল্পীদের বাসায় রমজানের উপহার সামগ্রী সুষম বন্টন। শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতি ডিপজলের সহযোগিতায় এসব খাদ্যদ্রব্য দিন রাত পরিশ্রম করে দুইটি বড় পিকআপে করে সমিতির প্রতিনিধি শিল্পীদের বাসায় বাসায় পৌঁছে দিচ্ছেন। মিশা-জায়েদের সাথে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন মারুফ আকিব, জেসমিন, জয় চৌধুরী, জাকির, জামান’সহ কার্যনির্বাহী কমিটি।
রোমান রায়