বাসায় বসে নন-ফিকশন কাজ করলাম: গাজী আবদুন নূর

কলকাতার জি-বাংলা চ্যানেলে প্রচারিত বহুল জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ এতে কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজচন্দ্র দাশ-এর ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেন অভিনেতা গাজী আবদুন নূর। কলকাতায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও,এই অভিনেতার জন্মস্থান বাংলাদেশে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেছেন। মুক্তির প্রহর গুনা নারগিস আখতার পরিচালিত ‘যৈবতী কন্যার মন’ এবং শাহনেওয়াজ কাকলীর পরিচালনায় ‘ফ্রম ব্যাংলাদেশ’। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ হলেও কলকাতা শহরে তাঁর বেড়ে ওঠা,এবং লেখাপড়াও কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন করেছেন। নাটক নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করলেও স্নাতকোত্তর করছেন সাংবাদিকতা বিষয়ে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে চলছে লক ডাউন। তাই শোবিজ অঙ্গনের সব সেক্টরের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এই মুহুর্তে বিনোদন জগতের সব তারকারা ঘরেই সময় কাটাচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতি আর তাঁর বর্তমান দিনকাল নিয়ে কথা হলে অভিনেতা গাজী আবদুন নূর জানান, ‘আমি একমাসের বেশি সময় ধরে লক ডাউনে আমাদের গ্রামের বাড়ি যশোরে আছি। বাসায় থাকছি বের হই না। আমি আর আমার মা আছি বাসায়। বাসায় কাজ কর্ম আমিই করছি। নিয়মিত নামাজ পড়ছি। বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আড়াই ঘন্টার নাটক ‘ঘুঘু’,সেটিকে মঞ্চের জন্য কমেডি ফর্মেশনে ফেলার চেষ্টা করছি। এটা আমি যাকে নিয়ে সংকলন করেছিলাম তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড.দেবব্রত চক্রবর্তী।আমার মঞ্চের গুরু ছিলেন।তিনি পরলোকগমন করেছেন পাঁচ মাস হলো।তাঁর স্মরনেই কাজটা আবার করছি। এছাড়া বাসায় বসে নন-ফিকশনের কাজ করলাম।এখানে আমরা ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ টিমের বেশ কয়েকজন এই শুটে অংশ নিয়েছি যে যার বাসা থেকে। আমরা কে কি করছি? কিভাবে সময় কাটাচ্ছি? এগুলো নিয়েই আমরা মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে দৃশ্য ধারণ করি। এরমধ্যেই স্টিল ছবি দিয়ে জি-বাংলায় প্রমো প্রচারিত হয়েছে।’
করোনার প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে এই অভিনেতা বলেন,সারা পৃথিবী থেমে গেল। আমরা বুঝেছি যে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য বড় কিছুর প্রয়োজন নেই। সামনে করোনার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে প্রচুর লোক বেকার হবে। স্বাভাবিকভাবে চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাবে। নিরাপত্তার জায়গাটা হুমকির মুখে পড়বে। আমাদের কাঁচামাল বাইরের দেশ থেকে আনতে হয়। সেগুলো কবে খুলবে, বিদেশে গিয়ে কবে আমাদের প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাবে এসব চিন্তার বিষয়। করোনার পরে এ ক্ষেত্রে আমাদের বেগ পেতে হবে।
কলকাতার চলচ্চিত্রে কি কখনো অভিনয় করতে দেখা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কলকাতার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সবার সাথেই আমার বেশ ভালো সম্পর্ক এবং সবার সাথেই যোগাযোগ আছে। আমি সব সময় চ্যালেঞ্জিং গল্পে কাজ করতে আগ্রহী। দেখা যাক করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আমার সাথে টাইমিং মিলে গেলে অবশ্যই কলকাতার দর্শকরা আমাকে বড় পর্দায় দেখতে পাবেন।
রোমান রায়