বেপরোয়া ববি

গেলো এপ্রিল মাসে মুক্তি পাওয়া ‘বিজলী’ ছবির কল্যাণে এমনিতেই আলোকিত ঢাকার চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা ববি। সম্প্রতি ‘নোলক’ ছবির মাধ্যমে নতুন করে আলোচিত হয়েছেন তিনি। আর আসন্ন ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষিত বেপরোয়া ছবির কারণে চলচ্চিত্রাঙ্গনে চলতি সময়ে বইছে ববি বন্দনা। র‌্যাম্পের গণ্ডি পেরিয়ে টিভি নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করা গ্ল্যাামার গার্ল ববির ১৩ নম্বর ছবি ছিল ‘বিজলী’। ছবিটির প্রযোজকও ছিলেন ববি নিজেই। সংখ্যাতত্ত্বে ‘বেপরোয়া’ হতে যাচ্ছে তার অভিনীত ১৪ নম্বর ছবি। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত এবং কলকাতার কুশলী নির্মাতা রাজা চন্দ পরিচালিত বেপরোয়া ছবিতে ববির নায়ক রোশান। ববি-রোশান জুটির বেপরোয়া’ই প্রথম ছবি। ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষিত বেপরোয়া প্রসঙ্গ এবং ববির চলমান ফিল্ম ক্যারিয়ার নিয়েই বিনোদন বিচিত্রা’র ঈদুল আযহা সংখ্যার এই প্রচ্ছদ প্রতিবেদন। লিখেছেন অর্ণব আদিত্য

শুরুতেই বেপরোয়া প্রসঙ্গ। ছবিটি নিয়ে কিছু বলুন?
আমি বলবো ঈদে মুক্তি পাওয়ার মতো সুপার ধামাকা ছবি এটি। রাজা চন্দের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম কাজ। ছবির অধিকাংশ শ্যুটিং হয়েছে হায়দারাবাদে। ছবিটি রোম্যান্স-কমেডিতে ভরপুর। দারুণ জমজমাট গল্প রয়েছে। আমার নায়ক রোশান সুপার স্মার্ট-একটি ছেলে। এর আগে সে ‘ধ্যাত্তেরিকি’ ‘ককপিট’ ও ‘রক্ত’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। বেপরোয়া ওর চার নম্বর ছবি। আর জুটি হিসেবে এটি আমাদের প্রথম ছবি হলেও আমাদের অন স্ক্রীন কেমিস্ট্রি দারুণ হয়েছে।
এর মানে আপনি বলতে চাইছেন-দর্শকরা আপনার জুটি হিসেবে রোশানকে উষ্ণ অভিবাদন জানাবেন? অবশ্যই। আমি দারণভাবে আশাবাদী এই বিষয়ে। রোশানের চেহারা, ফিগার, অভিনয়, নাচে দক্ষতা সবকিছু মিলিয়ে দর্শকদের তাকে ভালো লাগবেই। আর আমরা চেষ্টা করেছি- জুটি হিসেবে সহজ-সাবলীল হয়ে আমাদের জুটির রসায়ন পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে। বলতে পারেন এই জন্যেই আমি রোশানের বিষয়ে আশাবাদী।
বেপরোয়া ছবিটির গল্প কেমন?
এটি রোম্যান্টিক অ্যাকশান ধাঁচের ছবি। প্রচুর কমেডিও আছে। আছে দারুণ নাচ-গান। সব মিলিয়ে জমজমাট গল্পের সুপার ধামাকা ছবি এটি।
ছবিতে আপনার চরিত্রটি কেমন?
এই ছবিতে আমার চরিত্রের নাম কিরন। আমি পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করি। আর রোশান হলো একজন স্ট্যান্টম্যান। ভুল করে ওকে পুলিশ ভেবে আমি ভালোবেসে ফেলি। পরে আস্তে আস্তে ওর সম্পর্কে জানতে পারি। ততক্ষণে রোশানের সঙ্গে গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়ি।
প্রথমে তো বেপরোয়া ছবিতে শাকিব খানের অভিনয় করার কথা ছিল?
হ্যাঁ। কিন্তু তার শিডিউলগত সমস্যার কারণে অভিনয় করেননি। এই জন্যেই শেষে আমার নায়ক হিসেবে রোশানের অভিনয় করা।
তো। শাকিবের বদলে রোশান হওয়াতেও কী আপনি বেপরোয়া নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী?
অনেক। রোশান এই ছবিতে এতটাই ভালো পারফর্মেন্স করেছে যে, দর্শকরা তাকে পছন্দ করবেনই। কারণ আমাদের দু’জনের অন স্ক্রীন কেমিস্ট্রি দারণ জমে ওঠেছে। আমি তাই ওর বিষয়ে পুরোপুরি আশাবাদী।
এবার চলমান ক্যারিয়ার প্রসঙ্গ। নোলক ছবির খবর কী?
এই ছবির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নোলক ছবিতে আমার নায়ক সুপার স্টার শাকিব খান। এটি আমার স্বপ্নের একটি ছবি হবে বলে আশা রাখছি।
মাঝখানে মিডিয়া জুড়ে তোলপাড় ঘটে গেল নোলক ছবির পরিচালক পরিবর্তন হওয়া নিয়ে। এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
আমি বলবো নোলক ছবির পরিচালক পরিবর্তন করা হয়নি। পরিচালক হিসেবে মহরতের সময় যাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল সে নিজেও জানতো ছবিটির পরিচালক হিসেবে নাম যাবে প্রযোজক সাকিব সনেটের। তাই পরিচালক পরিবর্তনের কোন প্রশ্নই আসে না। ছবিটির প্রযোজক-পরিচালক সাকিব সনেট। আর উপদেষ্টা পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন ইফতেখার চৌধুরী। যেহেতু নোলক ছবিতে প্রচুর গ্রাফিক্স ও ইফেক্ট এর কাজ আছে। তাই এই বিষয়ে এক্সপার্ট হিসেবেই ইফতেখার চৌধুরী শুরু থেকেই উপদেষ্টা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন।
এবার আপনার প্রযোজিত বিজলী ছবি প্রসঙ্গ। ওই ছবিটি প্রযোজনা করার কারণ কী ছিল?
বিশেষ কোন কারণ ছিল না। হয়তো আরো আগেই আমি প্রযোজনায় আসতাম। কিন্তু গল্প, চিত্রনাট্য আর আনুষিকে অন্যান্য বিষয় ঠিক করতে কিছুটা সময় লেগে যায়। আর আমাদের দেশে বিজলী’র মতো ছবি নির্মাণ সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ। তাই আমার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটে বিজলী’র মাধ্যমে।
আপনার অভিনীত মুক্তি পাওয়া অন্যান্য ছবি কী কী?
প্রথম ছবি খোঁজ দ্য সার্চ। সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ছবি বিজলী। মাঝের ১১টি ছবি হলো দেহরক্ষী, ফুল অ্যান্ড ফাইনাল, হিরো দ্য সুপার স্টার, রাজা বাবু রাজত্ব, স্বপ্ন ছোঁয়া, অ্যাকশন জেসমীন, ব্ল্যাকমেইল, আই ডোন্ট কেয়ার, ইঞ্চি ইঞ্চি প্রেম, ওয়ান ওয়ে, আরো ভালোবাসবো তোমায়।
মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবি?
ঈদে বেপরোয়া রিলিজের পর মুক্তি পাবে নোলক, নীলিমা, বৃদ্ধাশ্রম ছবিগুলো। নতুন আরও কিছু ছবিতে অভিনয়ের কথা চলছে। সম্প্রতি নতুন একটি ছবিতে সাইন করেছি। খুব শীঘ্রি কাজ শুরু হবে ছবিটির।
এটির নাম কী?
ছবিটির নাম ‘রক্তমুখী নীলা’। এটি কলকাতার ছবি। ছবিটিতে আমার বিপরীতে অভিনয় করবেন তামিল নায়ক সব্যসাচী। এটির পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। সঙ্গীত পরিচালনা করবেন মুম্বাইয়ের নামী সঙ্গীত পরিচালক রাজেশ রোশন। এখন পর্যন্ত আমি যতটা জানি, ছবিটি তিনটি ভাষায় ডাবিং করা হবে (তামিল, বাংলা ও উড়িষা)। তবে এর পাশাপাশি হিন্দী ভাষায়ও ডাবিং হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেপ্টেম্বরে ছবিটির শুটিং শুরু হচ্ছে।
আবার একটু ছব্ িপ্রযোজনা প্রসঙ্গ। ছবি প্রযোজনার ক্ষেত্রে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
প্রথম প্রযোজিত ‘বিজলী’ ছবির সাফল্যে আমি প্রযোজক হিসেবে খুশি। ছবিটির ব্যবসা এবং অন্যান্য সামগ্রিক বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট। ইচ্ছে আছে বিজলী ছবির সেকুয়াল নির্মাণ করার। বিজলী টু কিংবা এই গল্প নিয়েই অন্য নামে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আর অভিনেত্রী হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
একজন দক্ষ অভিনেত্রীর ইমেইজে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। ভালো কিছু ছবিতে নানামুখী চরিত্রে অভিনয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। আসলে আমি কোন টাইপড অভিনেত্রী হতে চাই না। কারণ, আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি চারিত্রিক ভিন্নতা দিয়েই একজন সত্যিকারের অভিনেত্রী হওয়া যায়।
সর্বশেষ প্রশ্ন। ‘বিজলী’র পর আর কোন ছবিতে কী অভিনয় করেছেন, যেটি নিয়ে আপনি খুবই আশাবাদী?
অবশ্যই এই ছবির নাম নোলক। এটির শুটিং করা হয়েছে হায়দারাবাদের রামোজী ফিল্ম সিটিতে। এটি চমৎকার একটি ছবি। নোলক ছবিটি নিয়ে আমি ভীষণভাবে আশাবাদী। আর একজন অভিনেত্রীর কাছে তার অভিনীত প্রতিটি ছবিই সন্তানের মতো। তাই বেপরোয়া ছবিটি নিয়েও আমি আশাবাদী। আমার দর্শক ভক্তদের প্রতি অনুরোধ এবারের ঈদ উৎসবে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে বেপরোয়া ছবিটি দেখবেন। আপনারা সিনেমা হলে গিয়ে যত বেশি বাংলাদেশী ছবি দেখবেন তত বেশি আমরা ভাল কাজে অনুপ্রাণিত হবো।