করোনার হাত থেকে যেভাবে সুস্থ হলেন লোকমান

কারও যদি করোনা পজেটিভ হয়, দয়া করে আতঙ্ক গ্রস্ত হবেন না। মনে সাহস রাখবেন। ঘাবড়ে যাবেন না।
আমাদের লোকমান সুস্থ হয়েছে,কোন হাসপাতাল বা ঔষধের কারনে নয় একেবারেই নিজের চেষ্টায়। ওকে প্রতিদিন ফোন করে বলতাম, টাকার মায়া করিস না, কমলা, লেবু,আপেল মসলার চা খাস। লোকমান সেটাই ফলো করেছে। ও রাতদিন ঐ ভাবেই খেয়েছে।
মাছ মাংস সব খেয়েছে। একাই সে যুদ্ধ করেছে বিশ্বব্যাপি অপ্রতিরোদ্ধ ভয়ংকর করোনা ভাইরাসের সঙ্গে। এক সপ্তাহেই ফিরে এসেছে অনেকটা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে। ও যখন আমায় বলল, ম্যাডাম আমি এখন সুস্থ, আমার চোখে তখন আনন্দের অশ্রু। আপনি আমিও পারবো ইনশাআল্লাহ। কমলা, লেবু, আপেল মসলার চা, এসব খাওয়ার দুই দিন পরেই বলেছিলো, ম্যাডাম চিন্তা কইরেন না, মুই মরমু না। ওর আত্মবিশ্বাসে আমি নিজেও কনফিউজড ছিলাম, কিন্তু পরে সেটাই সত্য হলো। লোকমান ফিরে এসেছে।
আসুন এবার লোকমানের পরিচয় দেই। দিন তারিখ মনে নেই। এমনকি সালও। বিশাল এক আইড় মাছ নিয়ে বাসাতে এলো। ছাদের খোলা জায়গায় ছাতার নিচে তাকে বসতে দেয়া হলো। পায়জামা পান্জাবী পরা সেই ছেলেটার নামই লোকমান।
একদিন দুদিন করে বাসায় আসতে আসতে কখন যে রাজীব সাহেবের পি এস হয়ে গেলো, আমাদের পরিবারের একজন হয়ে বাকি জীবন আমাদেরই ঘরের লোক হয়ে গেলো, তা আমরা নিজেরাও জানিনা।
এত এত অমানুষদের উপকার করেছি কেউ কোনও দিন একবার ফোন করেও জিজ্ঞেস করেনি, কেমন আছি কিংবা বাচ্চারা কেমন আছে?
এই লোকমানকেই সব সময় পাশে পেয়েছি,যখন যা বলেছি, সাথে সাথে সে করে দিয়েছে। এই কাজ সেই কাজ হাসি মুখে করে দিয়েছে।
সব সময় বলতো আপনাদের সহযোগিতায় আজকে আমি এখানে, আজ আমি প্রতিষ্টিত।
কয়েকদিন আগে ওর ফোন আসাতে ভেবেছিলাম আমাদের খবর নেওয়ার জন‍্য বুঝি ফোন করেছে। কেমন আছিস জিজ্ঞেস করতে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, ম‍্যাডাম আমি ভালো নেই, করোনা পজেটিভ আমার শরীরে।
সাথে সাথে নিজেকে বড় অসহায় মনে হলো। অন‍্য রোগ হলে বাসায় এনে সেবা দিয়ে সুস্থ করতে পারতাম।
আল্লাহ্,যে মানুষটা দিনের পর দিন আমাদের সেবা দিয়ে গেলো সে মানুষটা একা, ঢাকা শহরে একা যুদ্ধ করছে, আর আমি কোন সাহায্য করতে পারছি না। ফোন রাখার আগে বললো, ম‍্যাডাম ফেস বুকে আমার কথা লিখে সবার কাছে দোয়া চাইবেন।
এই ভালো মানুষ লোকমানের জন‍্য সবাই দোয়া করবেন। লোকমানরে ভয় পাস না ভাই। আমাদের কথা ছিলো এক সাথে ওমরা করতে যাবো, ভাইরে যাবো। মহান রাব্বুল আলামিন চাইলে আমরা অবশ্যই যাবো ইনশাআল্লাহ।
দেবী গাফফার, উত্তরা