অসহায় মানুষের পাশে ববি

ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করেছে। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শতক ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং ১৩ জন মৃত্যু বরণ করেছেন। করোনা আতঙ্কে কাঁপছে সারা দুনিয়া। লকডাউন হয়েছে অনেক দেশ ও ব্যস্ত শহর। স্থবির হয়ে গেছে বাংলাদেশও। বন্ধ হয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। রাস্তাঘাটে নেই মানুষজন। এমনি অবস্থায় জীবন ও জীবিকা নিয়ে অসহায় দিন পার করছেন খেটে খাওয়া দিন মজুররা। সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষেরা তাদের দায়িত্ব নিচ্ছেন যার যার জায়গা থেকে। এগিয়ে এসেছেন অনেক তারকাও।এবার সে তালিকায় নাম লেখালেন ঢাকার সিনেমার এইসময়ের চাহিদা সম্পন্ন ও ব্যস্ত নায়িকা ইয়ামিন হক ববি। নিজের একটা ভক্ত শ্রেণি এরই মধ্যে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বিজলী খ্যাত নায়িকা। নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত এই নায়িকা। যদিও নীরবে নিভৃতেই তিনি এই কাজগুলো করতে পছন্দ করেন। বর্তমান সময়ে করোনা সংকট নিয়ে চিন্তিত ববি। দেশের মানুষকে করোনার ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বার্তাও দিয়েছেন। দিনের বেলা নামাজ আর কুরআন পড়েই সময় কাটছে তার। আর রাত হলেই ত্রাণ নিয়ে অসহায় মানুষের কাছে ছুটছেন। গেল কয়েকদিন ধরেই এই কাজটি অব্যাহত রেখেছেন গ্লামারাস এই নায়িকা। নীরবেই এই কাজটি করছেন ববি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ছবি পোস্ট করে নয়। প্রাণের তাগিদে ছুটছেন সহায়-সম্বলহীন মানুষের সহযোগিতায়।
দেশে দিনকে দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বাইরে গিয়ে এই ত্রাণ সামগ্রী দেওয়াটাও ঝুঁকিপূর্ণ। ববির ভাষ্য হলো, সংবাদ মাধ্যমে মানুষের অসহায়ত্ব দেখার পর নিজেকে সামলে রাখতে পারিনি। তাই নিজের ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে এসেছি। তাদের কষ্ট দেখে মৃত্যুভয় কাজ করছে না। শুধু একটা কথাই বার বার মনে হয়েছে তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই হবে। খাবারের অভাবে যেন একটি প্রাণও অকালে হারিয়ে না যায় সেটিই ভেবেছি।
ববি আরও বলেন, আমরা নিজেরাই কেবল নিজেদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারি। কয়েকটা দিনের ব্যাপার মাত্র। সবাই একটুখানি সতর্ক হলে বেঁচে যাবে হাজারও প্রাণ। আমাদের বিশ্বের অন্য দেশের কাছে থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। উন্নত দেশগুলো করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। আমাদের এখন আল্লাহ কাছে দোয়া চাওয়া আর ঘরে থাকার কোনও বিকল্প নেই।
শহর যখন ঘুমায়। সেই ঘুমন্ত শহরের ক্ষুধা নিয়ে ঘুমানো মানুষের জন্য খাবার নিয়ে হাজির হন ববি। এরই মধ্যে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুরের বেশ কিছু এলাকা, কমলাপুর, মগবাজারে নিজ হাতে ত্রাণ সামগ্রী অসহায়দের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন ববি। এছাড়া নিজের জন্মস্থান জামালপুরের মানুষদেরও এই ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন।
গেল বছর বাবাকে হারিয়েছেন ববি। তার বাবাও সব সময় বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। ববি বলেন, আজ বাবা বেঁচে থাকলে মানুষের জন্য আরও বেশি করতেন। বাবা-মাকে হারানো সন্তানরাই কেবল পিতা-মাতার অভাব বুঝতে পারে। আমি বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছি।
রোমান রায়