শাকিব-নুসরাতের জুটির ‘শাহেনশাহ’

শাকিব খান ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক। তার নামে ছবি চলে। দর্শক আসেন সিনেমা হলে। প্রায় এক দশক ধরে একক রাজত্ব ধরে রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে সমসাময়িক নায়িকাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার নুসরাত ফারিয়ার। দেশি বিদেশি অনেক সিনেমায় তিনি আলোচিত হয়েছেন। তবে শাকিব খান ও নুসরাত ফারিয়া কখনো একসঙ্গে অভিনয় করেননি। অবশেষে সেই সুযোগ এলো ‘শাহেনশাহ’ ছবিতে। সেখানে একে অপরের বিপরীতে তারা কাজ করলেন। অনেক প্রত্যাশা ছিলো নতুন এই জুটি নিয়ে। কিন্তু সেই অনুযায়ী জমে উঠেনি তাদের রসায়ন। বরং নতুন নায়িকা হিসেবে রোদেলা জান্নাত এই ছবিতে বেশ ভালো সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে দেখানোর, এমনটাই আলোচনা হচ্ছে। পরিচালক হয়তো প্রথম নায়িকার চেয়ে দ্বিতীয় নায়িকার প্রতিই বেশি মনযোগী ছিলেন।
তবে বেশ কিছু রিভিউয়ে দেখে পরিচালকের নির্মাণের প্রশংসা করা হয়েছে। সেসব লেখায় উঠে এসেছে ছবিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এটি এখনো কোনো সিনেমার নকল বলে অভিযোগ উঠেনি। আর নানামাত্রিক দোষে দুষ্ট হলেও পরিচালক এটাকে ঝকঝকে ফ্রেমে, স্মার্টলি উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। শাকিব খান তার অভিনয় দিয়ে সবসময়ই পার পেয়ে যান মানহীন গল্পের ছবিতে। এবারেও সেটাই হয়েছে। শাকিব তার চরিত্রে অভিনয়ে নিখুঁত।
পাশাপাশি সমালোচনা হচ্ছে মিশা সওদাগর, ডনের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতাদের মেধার অপচয়ের জন্য। ‘শাহেনশাহ’ ছবিতে এই দুই অভিনেতার প্রতি কোনো যত্নই নেননি নির্মাতা। অনেকে ডনের চরিত্রটিকে গুরুত্বহীন বলেও দাবি করেছেন।
সঙ্গত কারণেই শাকিবের নামের পাশে বেমানান লাগলো শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত এই সিনেমা। ‘নবাব’, ‘শিকারী’, ‘ভাইজান এলো রে’, ‘সুপারহিরো’, ‘পাসওয়ার্ড’র পর ‘বীর’-এর মতো ‘শাহেনশাহ’ শাকিবের জন্য হতাশার।
ছবিটি ঢাকার মধ্যে খানিকটা ভালো গেছে মধুমিতায়। মালিকপক্ষ ছবিটির ব্যবসা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে রাজি নয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রথমদিনে এই ছবি ১ লাখের উপরে আয় করেছে। শনিবার দিন সেই পরিমাণটা ছিলো ২৫ হাজারের কাছাকাছি। রোব ও সোমবারে আরও নেমেছে।
‘শাহেনশাহ’ সিনেমাটিতে শাকিব খান-নুসরাত ফারিয়া ও নবাগত রোদেলা জান্নাত ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, উজ্জ্বল, আহমেদ শরিফ, ডন, অনুভব মাহবুব, লিটন হাসমি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন শামীম আহমেদ রনি।
রোমান রায়