নিজের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন কাজী হায়াত

বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য নির্মাতা কাজী হায়াৎ হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাঝখানে বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। ভাবেননি তিনি সুস্থ হয়ে আবার সিনেমা নির্মাণের সুযোগ পাবেন। প্রায় ছয় মাস নিউইয়র্কে চিকিৎসা নিয়ে কাজী হায়াৎ সুস্থ হয়ে আবার সিনেমা নির্মাণ শুরু করেছেন।ঢাকার সিনেমার জনপ্রিয় শীর্ষ নায়ক শাকিব খান প্রযোজিত তৃতীয় সিনেমা ‘বীর’ নির্মাণের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে নির্মাতা হিসেবে অর্ধশতক পূর্ণ করলেন কাজী হায়াৎ। বরেণ্য নির্মাতা কাজী হায়াত বলেন, ‘সেই অবস্থা থেকে ফিরে এসে আবার সিনেমা করতে পারব, কখনোই ভাবিনি। এই ছবি করতে গিয়ে আমি অনেকের প্রতি রাগান্বিত হয়েছি, বকা দিয়েছি; প্রত্যেকের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কারণ, “বীর”–এর পর আবার অ্যাকশন-কাট বলে ছবি নির্মাণ করতে পারব কি না, এর কোনো গ্যারান্টি নাই। এখানেই হতে পারে সমাপ্তি।’ গতকাল বুধবার ঢাকা ক্লাবের স্যামসন হলে নিজের পরিচালিত সিনেমা ‘বীর’–এর মুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন কাজী হায়াৎ। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এই নির্মাতার ‘বীর’ মুক্তির দিন সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাজী হায়াৎ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে বলেন, ‘কত দিন বাঁচব জানি না। তবে হয়তো “বীর” আমার শেষ ছবি। এরপর হয়তো আমার আর সিনেমা বানানো হবে না। শাকিব তার প্রযোজনার ছবিতে আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে, এ জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।’ বলেই কেঁদে ফেললেন কাজী হায়াৎ।‘দাঙ্গা’, ‘আম্মাজান’–এর মতো ব্যবসাসফল এই নির্মাতা বলেন, ‘১৯৭৮ সালে আমার নির্মিত প্রথম ছবি মুক্তি পেয়েছিল। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আমার ৫০তম ছবি “বীর” মুক্তি পেতে যাচ্ছে। পুরো জার্নিতে আমি কষ্ট যেমন পেয়েছি, আনন্দও তেমন পেয়েছি। নিউইয়র্কে যখন চিকিৎসাধীন ছিলাম, আমার মৃত্যু গুজব ছড়িয়েছিল। তখন আমি পৌনে এক ঘণ্টা ছিলাম মৃতপ্রায়।’ বেশকিছু দিন আগে মেকআপ ম্যান ও ক্যামেরা ম্যান’দের নিয়ে মন্তব্য করে বেশ সমালোচিত হোন। গতকাল তিনি তার ঐ কথার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন এবং তাদের যেই ভুল ত্রুটি আছে তাও শুধরে নিতে বলেন।
নিজের প্রযোজিত এবং অভিনীত ‘বীর’ নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘বেশি দিন না, চার–পাঁচ বছর আগের কথা। সকালে এক ছবিতে, দুপুরে এক ছবিতে এবং ডাবিং বা রাতে আরেক চলচ্চিত্রে কাজ করতাম। এভাবেই চলত আমাদের দিনকাল। দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল আমাদের চলচ্চিত্র। কিন্তু হঠাৎ করে এক ঝড়ো হাওয়ায় আস্তে আস্তে চলচ্চিত্রের দুর্দিন নেমে এল। তবে এদিনও থাকবে না। দিন ফিরবে আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পের।’
তিনি বলেন, ‘এখন আর থেমে থাকার সময় নেই। কারণ, পাশে পেয়েছি আমার বড় ভাই ফারুক সাহেব,এই ইন্ডাস্ট্রিতে যাকে আমি বাবা বলে থাকি আলমগীর সাহেব তাদের মতো সুপারস্টার অভিনেতাদের। তাঁরা আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিচ্ছেন। তাঁদের উৎসাহে আমি উজ্জীবিত। এখন মনে হচ্ছে আমার আর বসে থাকার সময় নেই। আমাকে এগিয়ে যেতে হবে দুর্বারগতিতে। আগে যেমন প্রতিবছরে ২০-২৫টি ছবিতে অভিনয় করতাম, সেভাবেই কাজ করতে হবে। নিজের হাউস থেকে নিয়মিত ছবি বানাব এবং অন্য প্রযোজক যাঁরা বসে আছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করব।’
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে শাকিবের উদ্দেশে প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বলেন, ‘অভিনেতা শাকিব খানকে অনুরোধ করে বলছি, বছরে অন্তত ছয়টা ছবি নিজে বানাবেন এবং যেসব প্রযোজক বসে আছেন, তাঁদের যেভাবে ফিরিয়ে আনা যায় তার চেষ্টা শাকিব খান করবেন।’ পরিচালক কাজী হায়াৎ ‘বীর’ নিয়ে বলেন, ‘যদি বাংলা সিনেমার দর্শক থেকে থাকেন, প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখার ইচ্ছা হয়, তাহলে এই ছবিটি আপনাদেরই জন্য। আমার বিশ্বাস, কেউ সিনেমাটি দেখে হতাশ হয়ে ফিরবেন না।’ তাঁর কথা, এই ছবি দেখতে বসে মনে হবে গল্পটি খুব চেনা কোনো এক এলাকার, মানুষগুলো চেনা, ঘটনা সব জানা।
৮০টির মতো হলে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘বীর’ মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, চিত্রনায়ক ফারুক, আলমগীর, চিত্রনায়ক শাকিব খান, মিশা সওদাগর, ইমন, নিরব, নাদিম, সোহানুর রহমান সোহান, মুশফিকুর রহমান গুলজার, খোরশেদ আলম খসরু, মালেক আফসারী প্রমুখ।
১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘বীর’। এরই মধ্যে ছবির ট্রেলার ও গান শাকিব খানের নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। এটি পরিচালক কাজী হায়াতের নির্মিত ৫০তম ছবি।
দেশাত্মবোধের গল্প নিয়ে এর কাহিনি গড়ে উঠেছে। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন বুবলী, মিশা সওদাগর, সোহেল খান, সাদেক বাচ্চু, হাবিব খান, কাজী হায়াৎ, দুলারী প্রমুখ। ‘বীর’ প্রযোজনা করেছে শাকিব খানের প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মস।
রোমান রায়