আলোচিত রোহিঙ্গা চরিত্রে আরশি

নাফ নদী পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা তীরে এসে ভিড়তেই শরণার্থীদের সাহায্য দাতারা সেখানে ছুটে যান। তাদের মধ্যে একজন বয়স্ক লোক প্রত্যেক রোহিঙ্গার হাতে একটি করে বিশ টাকার নোট গুজে দিতে দিতে বললেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্ত। আগে পেটে কিছু দাও তারপর যা হবার হবে।’ আসিয়া নামের একজন রোহিঙ্গা নারী ইতস্তত করছিলেন, তিনি টাকাটা হাতে নেবেন কিনা। লোক জোর করে আসিয়ার হাতে একটি নোট গুজে দিয়ে বললেন, ‘আরে নাও নাও। লজ্জা কিছু নেই। আমি গরীব মানুষ। এর বেশি দিতে পারব না।’ আসলে রোহিঙ্গা নারী আসিয়া সাজে অভিনেত্রী আরশি হোসেন রোহিঙ্গাদের মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। রোহিঙ্গা ছবির নির্মাতা অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড আরশিকে নিখুঁত করে সাজানো গিয়েছে কিনা তা মূল স্রোতের সঙ্গে মিশিয়ে পরখ করে নিচ্ছিলেন।
আরশি স্বভাবসুলভ মুচকি হেসে বললেন, ‘ওই বিশ টাকার নোটটি ডায়মন্ড ভাইয়ের কাছে স্মৃতি হিসেবে গচ্ছিত আছে।’ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ম্যাচ রিহার্সাল শেষ করে ফেরার পথে আরশি দেখেন একজন বৃদ্ধ রোহিঙ্গা মহিলা নদীর ঘাটে বসে আছেন। কেন বসে আছেন জানতে চাইলে বললেন, তার সাত সন্তানের মধ্যে পাঁচ জন তার সঙ্গে এসেছে। দুটি নিখোঁজ আছে। তারা কখন আসে সেজন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। রোহিঙ্গাদের নিয়ে এমননি আরও অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চিত আছে আরশির ভান্ডারে। পক্ষান্তরে রোহিঙ্গার সাজে সজ্জিত আরশি তাদের সঙ্গে মিশে যেতে পারার থেকে স্পষ্টতই বুঝা যায় যে পরিচালক অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড নিখুঁতভাবে রোহিঙ্গা সাজাতে পেরেছেন আরশিকে। পরিচালক এখানেই বাস্তবতাকে অতিক্রম করে বাস্তবিক হয়ে উঠতে পেরেছেন। আরও একটি মজার ঘটনা উল্লেখ করলেন আরশি। তিনি যখন রোহিঙ্গার সাজে ঘাট থেকে শরণার্থী শিবিরে ফিরছিলেন তখন তার পায়ের কাদামাটি এবং রোহিঙ্গা সাজ দেখে রোহিঙ্গা মনে করে নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে।
ততক্ষণে তাকে পেছনে রেখে কিছু দূরে এগিয়ে গেছেন পরিচালক। এরপর লক্ষ্য করলেন পেছনে নায়িকা নেই। তাকিয়ে দেখেন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আরশির কথা হচ্ছে। পরিচালক এগিয়ে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে বললেন, কিছুক্ষণ আগে যে মেয়েটি জীনসের প্যান্ট গেঞ্জি পরে আপনাদের সামনে দিয়ে গেছেন তিনিই এই মেয়েটি। আরশি বলেন, রোহিঙ্গা ছবির শুটিংয়ে গিয়ে অনুভব করলাম, আমরা সবাই বাঁচার জন্য লড়াই করছি, কিন্তু রোহিঙ্গাদের লড়াইটা অন্যরকম, যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়।’ আরশি চলচ্চিত্রে এসেছেন বেশিদিন হয়নি। তার প্রথম ছবি বাজে ছেলে দি লোফার মুক্তি পেয়েছে দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে। ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন সময়ের আলোচিত তারকা বাপ্পী চৌধুরী। কিন্তু ছবিটি প্রত্যাশাব্যঞ্জক দর্শক টানতে পারেনি। সুতরাং আরশি আলোচনার বাইরেই রয়ে গেলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্মিত সত্যিকারের মানুষ ছবিটিও আলোচিত হতে পারেনি। এবার তিনি কাজ করছেন রোহিঙ্গা ছবিতে।
নামের প্রথম অংশ ‘আরশি’-কে কেন্দ্র করেই চলচ্চিত্রের মোহনীয় জগতে তার পরিচয়ের পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। যশোহর নাভারনের মেয়ে আরশি। তিনি বড় হয়েছেন নাভারনেই। সেখানে আনন্দ নামে একটি থিয়েটার গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। অভিনয় শিখেছেন সেখানেই। তার পিতা আফজাল হোসেন একজন ব্যবসায়ী। প্রাসঙ্গিকভাবে আরশি বলেন, ‘শুনেছি চলচ্চিত্রে একটা প্রবাদ আছে, নাচতে নেমে ঘোমটা দিতে নেই। আমি এটা বিশ্বাস করি। আমি এসেছি একটি রক্ষণশীল পরিবার থেকে। আমি কোনো ব্যক্তিগত বিষয়কে শর্তসাপেক্ষ করে যেমন কাজ করতে চাই না, তেমনি কারো গার্লফ্রেন্ড হয়েও কাজ করতে চাই না। আমি চাই কষ্ট এবং শ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে।’ তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আমার কোনো অভিভাবক নেই। আমি যে তিনটি ছবিতে কাজ করেছি তার পুরোটাই নিজের যোগ্যতা বলে। ক্যারিয়ারের লোভে কারো কাছে বন্দী থাকতে চাই না।’ রোহিঙ্গা ছবিটি প্রযোজনা করছেন শবনম শাহনাজ চৌধুরী।
রনি রহমান