‘Madurai of city foods with cultural people’

Madurai বলতে গেলে এই শহরটিতে জীবনে কখনোই আসা হতো না tourist হিসেবে, যদি না ,বন্ধু CRV সাথে, না পরিচয় হতো।আর তিনি আমাকে আমন্ত্রণ না, জানালে। তার উৎসাহে এবং তার আমন্ত্রণে আসা হয়েছে এখানকার Solamalai English collegeএর আমন্ত্রণে। তারাই আমার থাকার ব্যবস্থা করেছেন। CRV এক কথায় একজন অসাধারণ বন্ধু এবং দুটি স্বর্গের পরীর বাবা, এবং তার স্ত্রী যেমন সুন্দরী তেমনি গুণবতী, তার wife একজন ডাক্তার। আর CRV এর প্রায় 60 জনের IT ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান, একজন মোটিভেট স্পিকার ও রাইটার ও বটে। তিনি আমায় আমন্ত্রণ জানালে, আমি দেখি দুবাই থেকে ডাইরেক্ট ফ্লাইট আছে প্রতিদিন 11 টায় স্পাইসজেটে। টিকেট কাটার অনেক বিরম্বনায় আমি লাস্টে অবশ্য ডিসিশনে নিয়েছিলাম আসবোনা, কিন্তু পরে হঠাৎ করে টিকিট টি সহজে হয়ে যাওয়ায় চলে আসলাম 10ই ফেব্রুয়ারি সকালে। টানা সাড়ে চার ঘন্টা ফ্লাইট করে এখানে পৌঁছায় সাড়ে চারটার সময়। কিন্তু ইমিগ্রেশন অফিসারের কিছুটা হয়রানিতে 40 মিনিটস লেগে যায়।ইমিগ্রেশন এর ভাষ্য অনুযায়ী এখানে কখনো আগে কোন বাংলাদেশী প্রবেশ করেনি, সে জন্য তারা জানেনা বাংলাদেশীদের ঢুকানোর Rules কি? তিনি আমায় জিজ্ঞেস করেন আমার দেশে ফেরার রিটার্ন টিকেট আছে কিনা? কেন এসেছি? কোন অর্গানাইজেশন আমাকে দাওয়াত দিয়েছে তার কপি সবকিছু? হোটেল বুকিং? আরো ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং তারা ভুলবশত অর্গানাইজার কে ফোন করতে যে ,একটি ভুল নাম্বারে ফোন করলে ,সেই লোক আমাকে চিনে না বললে তারা আরো বসিয়ে রাখে। তারপরে যখন আমি ইন্টার্নেট থেকে বন্ধুকে ফোন করি ,তারপর তিনি কথা বললে, আমাকে ইমিগ্রেশন অফিসার ছাড়ে।(ধন্যবাদ তোমায় বাংলাদেশী পাসপোর্ট, তুমি করেছ গর্বিত মরে)
তিনি সরাসরি নিয়ে যায় অর্গানাইজার হোটেলে, তারপর আমাকে নিয়ে যায় এখানকার street food কোর্টে, সেখানে যাওয়ার পর শুরু হয় একে একে খাবার পালা, খাবার যে এত মজার তামিলনাড়ুতে না আসলে কখনোই চিন্তা করতে পারতাম না। তিল আর চিড়া সমন্বয়ের লাড্ডু থেকে শুরু করে কালি যেটা কিনা জব থেকে তৈরি করা হয় খাবার সেটার সাথে তেতুলের তৈরি পানিজাতীয় টক এর সাথে মিশিয়ে খেতে হয়। আর দোসা কারি সবকিছুই ট্রাই করা হয়েছে এখানে। এক চিকেনই 7 রকমের থেকে নয় রকম ভাবে তৈরি করা যায় এবং প্রতিটি টেস্টি ভিন্নতা রয়েছে, তা যেমন আমেরিকান মাস্টার্শিপকে মুগ্ধ করেছে, আমারকেও তেমনই। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল যেটা এখানে আমি প্রথম বাংলাদেশী এবং আমাকে দেখতে ওই ফুডকোর্টের মালিক থেকে শুরু করে প্রতিটা রেস্টুরেন্টের মালিকরা এসেছে, আমার মত একজন traveler এর সাথে পরিচিত হতে। আমার 115 টি দেশ ভ্রমণের কাহিনী শুনে, অনেকে অবশ্য বলেছেন কিভাবে সম্ভব হলো বাংলাদেশী পাসপোর্ট? খাওয়া-দাওয়া শেষ করে নটার সময় খুব ক্লান্ত শরীরে আমি আমার হোটেলে ফিরে যাই। পরের দিন সকাল বিশাল পরিকল্পনা।
Madurai 3 নাম্বার শহর বড় শহর তামিলনাড়ুর এবং 44 তম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। এই শহরটি বিখ্যাত হয়েছে 14 টি পাওয়ার বিশিষ্ট মীনাক্ষী আম্মান মন্দিরের জন্য। 14 টি টাওয়ারে রংয়ের মাধুর্য ছড়িয়ে হিন্দুদের অগণিত দেবতার মূর্তি রয়েছে।
এই শহরের প্রতিটি লোকই খেটে খায় এবং এখানে সবাই অনেক কর্মজীবী কর্মক্ষম জনশক্তি। এখানকার রেস্টুরেন্টকে বলা হয় Mess. সবচেয়ে বেশি এখানে চোখে পড়ে যেটা মানুষের গায়ের রং অনেকটাই কালো, আর এখানকার ঋতু মাত্র দুই বললেই চলে, শীত এবং গৃষ্ম, মৌসুমি ঋতু নামে আরেকটি ঋতু রয়েছে। তবে মাত্র দু মাস শীতকাল ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, আমি খুবই লাকি যে এই সময়টি আসতে পেরেছি, অথবা আপনারা হেসে মরে যাবেন, এদের শীত হচ্ছে মাত্র 24 ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গরম টা কিন্তু অনেকেই হবে, সেজন্য অবশ্য তাদের গায়ের রংটা অনেক পড়া এবং কালো।
11 ই ফেব্রুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্রেকফাস্ট করি etaly দিয়ে মাংসের ঝোল এর সাথে। দোসা কিন্তু অনেক মজারি। তারপর কলেজ থেকে কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের হেড এসে আমাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে যায় তাদের কলেজে কলেজ টা বিশাল বড় এরিয়া নিয়ে এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় মোটিভেশন স্পিকার হিসেবে গিয়েছি এবং আমার ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স আমি তাদের সাথে শেয়ার করেছি কখনো কোন ভয় লাগেনি, সবসময়ই অনেক আনন্দ ছিল যে, এখানকার ছেলে মেয়েরা কিভাবে নিবে, তবে এখানে আড়াইশো জন ছেলে মেয়েরা অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনায় আমার জন্য অপেক্ষা করেছে তাদের অডিটোরিয়ামে ,যেটা দেখি মন আমার ভরে গিয়েছে। প্রিন্সিপালের সাথে পরিচিত হয়ে চা নাস্তা করে তারপরে চলে গেলাম যেখানে অপেক্ষা করছে আড়াইশো স্টুডেন্ট, তাদের সাথে 55 মিনিট আমার বক্তৃতা শেষে, ছেলে-মেয়ের ছবি এবং সেলফির জন্য টিচাররা তাদের অনেকেই মানা করেছে, কিন্তু আমি তাদের খুব সুন্দর ভাবে বললাম যে ,না ,থাক আমি তাদের সাথে ছবি তুলতে চাই।তারপর ছবি তোলার পালা, অনেক ভালো লেগেছে এবং তাদের কিউরিসিটি এবং তারা কি সুন্দর ভাবে মাত্র 14 থেকে 17 বছরের ছেলে মেয়েরা কি সুন্দর ইংলিশ বলতে পারে দেখে খুব অবাক হয়েছি। পুরো সময়টায় তারা মনোযোগ সহকারে শুনেছে এবং প্রশ্ন-উত্তর সময়ে তারা উত্তর দিয়েছে। অনেক আনন্দের ছিল যেটা বলে বুঝাতে পারব না, মানুষকে কিছু জানানো কিংবা দেয়ার ভেতর যে কত আনন্দ যে দেয়, সেই শুধু বুঝে। তারপর লাঞ্চ করে চলে গেলাম এখানকার আরেকটি বড় কোম্পানিতে কর্মচারীদের সাথে বক্তৃতা দিতে, সেখানেও তাদের সাথে অনেক কথা বললাম এবং তারা অনেক অবাক হল এবং অনেক ছোটখাটো অনেক টিপস, তারা আমার কাছ থেকে জেনে নিল। এটা করে আমার সিডিউল অনুযায়ী লাঞ্চ করা ছিল আমেরিকান মাস্টার শেফ নোহার সাথে 14 পদের খাবারের। সে এক নতুন অভিজ্ঞতা খাওয়া যেন ফুরায় না। কোনমতে একটি সেলফি তুলে খাওয়া শেষ করে আমাকে ছুটতে হল আরেকটি অনলাইন tv ইন্টারভিউ জন্য, সেখানে যে একটি ফ্যাক্টরি মালিক, যিনি কিনা আবদুল কালামের পদকে ভূষিত হয়েছিলেন 2014 সালে, তার সাথে পরিচয় হলো। তার সাথে গল্প করা হলো আমার ভ্রমণ বিষয়ে। আর সাথে তার এসিস্টেন এসে রেডিও ও tv ভিডিও করল। তিনি তারপরে তিনি খুব আন্তরিকতার সাথে তার কোম্পানির অনেক প্রোডাক্ট গিফট করলো। সেখান থেকে আমি চলে গেলাম সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাতের ডিনার এর জন্য আরেক বিখ্যাত Mess । এইভাবে হাজারো খাবারের ভিতরে রাত্রি পার করলাম।
কাজী আসমা আজমেরী