রানী’র জন্মদিনে স্বজনদের শুভকামনা

অভিনয়কে পেশা করার আগে শোবিজ অঙ্গন সম্পর্কে নেশা, মোহ বা স্বপ্ন কোনটাই ছিল না রানী আহাদের। হঠাৎ বাবা-মায়ের অসুস্থতার খবর শোনে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসে অনেকটা কাকতালিয়ভাবে মডেলিংয়ে যুক্ত হয়ে যান। এর অল্প দিনের মধ্যে শুরু করেন দ্বীপ্ত টিভির পালকী ধারাবাহিকের কাজ। এখন স্বপ্ন দেখছেন বড় পর্দা নিয়েও।
রানী বলেন, ‘দ্বীপ্ত টিভিতে পালকী ধারাবহিকের কাজ করতে এসে অভিনয়টা শিখেছি। টেলিভিশনটির নিজস্ব প্রোডাকশনে নির্মিত নাটকটির নেপথ্যে যারা কাজ করেন তারা অনেক গুণী মানুষ। নতুন একজন মানুষকে কিভাবে গড়ে তুলতে হয়, তারা সেটা জানেন। বলা যায়, আমাকে হাত ধরে অভিনয় শিখিয়েছেন টেলিভিশনের কৌশলীরা।’ রানী বলেন, ‘অভিনয়ের জন্য প্রথম যেদিন ক্যামেরার সামনে দাড়িয়েছিলাম, ৩১ বার চেষ্টার পর প্রথম শর্ট ওকে হয়েছিল।’ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন কি সেই কঠিনতম সংলাপ যার জন্য এতোবার চেষ্টা করতে হয়েছিল, হাসতে হাসতে রানী বললেন, মাত্র দুইটা শব্দ ‘তুমি কোথায়’। পরিবেশ এবং ইমোশন ঠিক রেখে এই বাক্যটা বলতে সেদিন আমার ঘাম ছুটে গিয়েছিল। একজন বন্ধুর পরামর্শে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার স্ক্রিপ্ট ছিল ওটা।’ এরপর থেকে দিন যত বেড়েছে রানীর অভিনয়ের ভিত তত মজবুত হয়ছে। দেশের সবচেয়ে বড় বাজেটের নাটকে ‘সাবা’ নামের চরিত্রটি তার চমৎকার অভিনয় শৈলীতে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।’ রানী বলেন, ‘যখন দেশীয় নাটকের পূর্ব ঐতিহ্য স্মৃতির পাতায় বন্দী, দর্শকরা দেশীয় চ্যানেল রেখে বিদেশী নাটক-সিরিয়ালে মনোযোগী হচ্ছিলেন, ঠিক তখন দ্বীপ্ত টিভি দেশের নাটকে দর্শক বাড়ানোর চেষ্টা করে। যাদের নিয়ে ওই চেষ্টা সফলতার পায় তাদের অংশ হতে পেরে আমি গর্ববোধ করি।’ যে অভিনয় নিয়ে তিনি এখন গর্ব করেন, প্রথম দিকে এই মাধ্যমটির প্রতিই ছিল তার অনিহা। বিষয়টা শোনতে অন্যরকম মনে হলেও এটাই বাস্তব। রানি বলেন, ‘ছোট বেলা থেকে পড়াশোনাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি।
ছোট পর্দায় নিজেকে জনপ্রিয় করার পর রানী এখন স্বপ্ন দেখছেন বড় পর্দা নিয়ে। এ সম্প্রর্কে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। কাগজে কলমে সেটা কমার্শিয়াল হোক, আর যা ইচ্ছে হোক আমি শুধু চাই ভালো একটা চরিত্র। যেখানে কাজ করার অনেক জায়গা থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রের অবস্থা এখন অনেক ভালো। দর্শকরা মান সম্পন্ন ছবি পেলে প্রেক্ষাগৃহে ভীর করে। এরকম একটা সময়ে চলচ্চিত্রের সাথে নিজেকে জরাতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে।’
নারায়নগঞ্জের এই মেয়ে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়েছেন নিজ শহরেই। তারপর পরিবারের সাথে ঢাকায় এসে এসএসসি সম্পন্ন করে বিদেশে পাড়ি জমান। দুই বোন, তিন ভাইয়ের মধ্যে রানী দ্বিতীয়। যার স্বপ্ন মিডিয়াতে এমন কিছু করে যাওয়া যাতে ভবিষৎ প্রজন্ম এসে তাকে আইকন হিসাবে গ্রহণ করতে পারে।
আজ ২ আগস্ট রানীর জন্মদিন। রানীর ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী, বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনদের শুভকামনায় সিক্ত রানীর রাজত্ব। এখন রানী তার ক্যারিয়ারের ব্যস্ততম সময়গুলো পার করছেন। নাটকের সাফল্যের পর তাহসান ও তাসকিনের বিপরীতে মোহাম্মদ মুস্তফা কামাল রাজের ‘যদি একদিন’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন সম্প্রতি। পাশাপাশি নতুন কয়েকটি চলচ্চিত্রে রানী আসছেন নতুন কিছু নিয়ে। রানীর ব্যস্ত সময় সফল হোক, প্রস্ফুটিত হোক আগামীতে।
জে আই খাঁন আরিয়ান