অনুষ্ঠিত হলো দুই দিন ব্যাপী ১ম বাংলা আদি সংস্কৃতি উৎসব

ঢাকায় প্রথম বারের মতন অনুষ্ঠিত হলো দুইদিন ব্যাপী ১ম বাংলা আদি সংস্কৃতি উৎসব ২০২০। ঢাকা ফেস্টিভ্যাল এর আয়োজনে, দিশারী (ভারত) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “থিয়েটার এবং পারর্ফমেন্স স্টাডিজ” বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় ১২ হতে ১৩ জানুয়ারী দুই দিন ব্যাপী বাংলার আদি সংস্কৃতি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট-মন্ডল অডিটরিয়ামে।
উৎসবের প্রথম দিন, ১২ জানুয়ারী, রবিবার, বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমন্ডল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‍‍”মুজিব বর্ষ ২০২০-২১” কে উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়।
উৎসবের মূল আকর্ষন ছিলো মধ্যযুগের (১৩ শতকের) কাশ্মীরি বাউল সাধক লালেশ্বরী (লালী ডেড) কে নিয়ে বাংলায় প্রথম পরিবেশনা।
প্রথম অধিবেশনে ছিলো, দুই দেশের জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য দেন উৎসবটির প্রধান সমন্বয়ক মাকসুদা সুলতানা ঐক্য। ভারতের পক্ষ থেকে “দিশারী” প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার শ্রীমতি মানসী দাস বক্তব্য দেন এবং ভিডিও প্রদর্শনে মাধ্যমে দিশারীর শিল্প ও শিল্পী চর্চার বিষয়গুলী তুলে ধরেন।
উৎসবে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, উৎসবের বিশেষ অতিথি কথা সাহিত্যিক, গীতিকার এবং অবসর প্রাপ্ত ডেপুটি সেক্রেটারি এস এম শওকত ওসমান।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ছিলো, কাশ্মীরি বাউল সাধক লালেশ্বরী ( লালী ডেড) কে গবেষণা পত্র তুলে ধরেন এবং আলোচনা করেন কলকাতার জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক শমীক ঘোষ। বাংলার অরিজিনাল পারফর্মেন্স আর্টস বিষয়ে গবেষনাপত্র তুলে ধরেন গবেষক মনজুরুল ইসলাম মেঘ।
তৃতীয় অধিবেশনে ছিলো, সম্মাননা প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিবৃন্দকে। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “থিয়েটার এবং পারফমেন্স আর্টস” বিভাগীয় প্রধান ড. আহমেদুল কবীর, কথাসাহিত্যিক, গীতিকার, অবসর প্রাপ্ত ডেপুটি সেক্রেটারি এস এম শওকত ওসমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইসরাফীল শাহিন, ভারতের আসামে নিযুক্ত এ্যসিস্টান্ট হাই কমিশন অব বাংলাদেশ ড. শাহ্ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর, বিশিষ্ট অভিনেতা টুটুল চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি কমিশন, বাংলাদেশ এর অ্যাম্বাসেডর দেওয়ান বেদারুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ সন্তান কমান্ড এর সভাপতি মেহেদী হাসান, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি কমিশন, বাংলাদেশ এর পরিচালক মোঃ খোরশেদ আলম। সম্মাননা প্রাপ্ত বিশেষ অতিথিরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।
চতুর্থ অধিবেশনে ছিলো, প্যানেল ডিসকাশন। উপস্থাপিত কী-নোটের উপর আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, কথাসাহিত্যিক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর। বিশিষ্ট সাংবাদিক, কবি মাকসুদা সুলতানা ঐক্য’র সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. সাঈম রানা এবং লালন গবেষক ড. আবু ইসাহাক হোসেন ।
পঞ্চম অধিবেশনে ছিলো, ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা শ্রীমতি মানসী দাস এর পরিচালনায় পরিবেশিত হয় লালন, লালী ও রবীন্দ্র সংগীতের উপরে শাস্ত্রীয় নৃত্য। মানসী দাসের সাথে নৃত্য পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “থিয়েটার এন্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ” বিভাগরে শিক্ষার্থীরা। হলভর্তি দর্শকের কানায় কানায় পরিপূর্ণ উৎসবে একের পর এক পরিবেশনা চলতে থাকে। বাংলার পিঠা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের বিরতী করা হয়।
ষষ্ঠ অধিবেশনে ছিলো, চর্যাপদ থেকে আবৃতি করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী মাহনুর জারীন শর্মি। এই সেশনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি কমিশনের পক্ষ থেকে আয়োজকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ক্রেস্ট তুলে দেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি কমিশন, বাংলাদেশ এর অ্যাম্বাসেডর দেওয়ান বেদারুল ইসলাম । ভারতের দিশারীও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন অতিথিদের, স্মারক তুলে দেন মানসী দাস ও অধ্যাপক শমীক ঘোষ।
সপ্তম ও দিনের শেষ অধিবেশনে ছিলো, লালন ও লালী সংগীত পরিবেশন করে সুরের মুর্চনায় দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে তুলেন বাউল শিল্পী প্রদীপ অধিকারী, বাউল শিল্পী মৌসুমী বালা, লালী সংগীত শিল্পী ঐক্য জিৎ রায়, বাউল শিল্পী লামিয়া ঐশ্বর্য, লালন সংগীত শিল্পী নাজমুল হাসান প্রভাত, শিল্পী ব্রজেন্দ্র রায়।
উৎসব পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রথম দিনের অধিবেশন সমাপ্ত করেন এবং এই উৎসব প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছিলো বঙ্গবন্ধুকে নিবেদন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিদেশী অতিথিদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করা হয়। সেখানে গনমাধ্যমে লালী সংগীত তুলে ধরা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ভারত থেকে আগত লালী সংগীত গবেষক অধ্যাপক শমীক ঘোস ও মানসী দাস। ১ম বাংলা আদি সংস্কৃতি উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক মাকসুদা সুলতান ঐক্য, সমন্বয়ক মেহেদী হাসান, সমন্বয়ক রাশেদ শিকদার ও উৎসব পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ।
সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপনী করা হয় এবং ঘোষনা করা হয় আগামি ২০২১ সালের ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে ২য় বাংলা আদি সংস্কৃতি উৎসব ২০২১।
রোমান রায়