সিনেমার উন্নয়নে প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার

দীর্ঘদিন ধরে চলা সিনেমা হল মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি’র সাথে চলচ্চিত্রের অন্যান্য সংগঠনগুলো’র খারাপ অবস্থার এবার পরিসমাপ্তি হবার সম্ভাবনা চলছে। এবার সেসব দ্বন্দ্ব শেষ হতে চলেছে।
শনিবার বিএফডিসিতে প্রযোজক সমিতি অফিসে প্রদর্শক সমিতির শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। এসময় দুপক্ষের নেতারা সিনেমার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম এবং প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশিদ ও সহ-সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিনসহ আরও অনেকে।
প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছি আমরা। এছাড়া প্রদর্শক সমিতির সভাপতি এফ বি সি সি আই এর পরিচালক ও ফিল্ম এন্ড কালচার বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ কাজী শোয়েব রশিদসহ সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সুবিধা অসুবিধা নিয়ে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে আমরা এই আলোচনা চালিয়ে যাব।
খোরশেদ আলম খসরু আরও বলেন, ‘এটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হলেও অনেক কিছু নিয়েই আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রথমেই হল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং এর নানা সংকট থেকে উত্তরণের জন্য হল মালিকদের সরকারের কাছে উত্থাপন করা দাবি-দাওয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছি। হল সংস্কারের জন্য সরকারের কাছ থেকে অনুদান ও স্বল্প সুদে আর্থিক ঋণ পাওয়ার যে দাবি, তার পাশে আমরা প্রযোজকরা থাকবো বলেও জানিয়েছি।’
এছাড়া টিকিট বিক্রির দুর্নীতি ঠেকাতে ই-টিকেটিং চালু করা ও সরকারের তরফ থেকে টিকেটের ট্যাক্স মওকুফ করা হলেও অনেক হলের তা আদায় বন্ধের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে এই মিটিংয়ে।
খসরু বলেন, ‘আশা করছি খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি মিটিং হবে আমাদের। আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনার বাকি। তখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যেসকল বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে তা মিটিয়ে ফেলতে পারবো। এতে করে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরেয়ে আনতে পারবো এবং প্রযোজকরা লাভের মুখ দেখবেন।’
উল্লেখ্য,এদিকে গতকাল প্রযোজক সমিতিতে আরেকটি মিটিং হয়েছে বলে জানিয়েছেন খসরু। মোট ১৮টি সংগঠন মিলে ছবি নির্মাণের জন্য একটি নীতিমালা করেছিলো গত বছর। যেটি গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র প্রযোজক-পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। আলমগীর, কবরী, গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও শাকিব খান সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই এই নীতিমালাকে সমর্থন জানান।
রোমান রায়