কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চোখের পলকেই একটি বছর পেরিয়ে গেল আমজাদ হোসেনের প্রস্থান। আজ আমজাদ হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর স্মরণে এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। আজ ১৪ ডিসেম্বর, শনিবার সকাল ১১টা থেকে এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব অডিটরিয়ামে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘আমজাদ হোসেন আমাদের প্রাণের মানুষ, প্রেরণার মানুষ। আমজাদ হোসেন ঢাকাই সিনেমার গর্ব। তিনি চিরকাল এই ইন্ডাস্ট্রিকে ভালোবেসেছেন, এখানকার মানুষদের হৃদয় দিয়ে কাছে টেনেছেন। তার হাত ধরে অসংখ্য তারকা, নির্মাতা বিকশিত হয়েছেন। স্বভাবতই চিরকাল এদেশের সিনেমায় তিনি বেঁচে থাকবেন।
আজ তাকে হারানোর দিন। এটা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য বেদনার দিন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আজ সকাল থেকে কিছু আয়োজন করেছি আমরা। কারণ পরিচালক সমিতি ছিলো আমজাদ হোসেনের প্রিয় জায়গা। এফডিসিতে এলেই তিনি এখানে বসতেন, গল্প করতেন। আমরা তাকে দেখে আনন্দ পেতাম। তিনি আমৃত্যু পরিচালক সমিতিকে লালন করেছেন। তার প্রতি পরিচালক সমিতির ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাও চিরকাল বহমান থাকবে।’
এদিকে জানা গেল, আমজাদ হোসেনের জন্মভূমি জামালপুরে এক শোক র‍্যালি আয়োজন করা হয়েছে তার স্মরণে। জামালপুরের উদীচী, খেলাঘরসহ ৭০টি সংগঠনের অংশগ্রহণে এ শোক র্যালিটি সকাল ১০ টায় কামালতলা মোড় থেকে শুরু হয়ে আমজাদ হোসেন শায়িত পৌর কবরস্থানে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আমজাদ হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জামালপুরের জেলা প্রশাসক ও আশেক মাহমুদ কলেজের প্রিন্সিপালের নেতৃত্বে আয়োজিত এ শোক র্যালিতে অংশ নেন আমজাদ হোসেনের সন্তানেরা।
দিনব্যাপী কোরআন খতম ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনও করা হয়েছে এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে।
প্রসঙ্গত, আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট, জামালপুরে। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি ‘ভাত দে’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘নয়নমণি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’র মতো কালজয়ী সিনেমা নির্মাণ করেছেন।
১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রজীবন শুরু করেন তিনি। পরে চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় আসেন।
তার প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ছবিটি পরিচালনা করেন ১৯৬৭ সালে। বাকিটুকু ইতিহাস। স্বীকৃতি হিসেবে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এছাড়াও সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
রোমান রায়