‘আই হেইট পলিটিক্স’ থেকে যুবকদের বের করতে চান পরশ

ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শনিবার যুবলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সংগঠনটির নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ।
যুবলীগ চেয়ারম্যান হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুবলীগকে যুবকদের কাছে আকর্ষণীয় সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি।
ফুফুর (শেখ হাসিনা) একান্ত ইচ্ছায় শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আসা পরশ বলেন, “বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যার উপর আস্থাশীল। তারা দেখেছেন কীভাবে গত পাঁচ বছরে আর্থ-সামাজিকভাবে দেশকে দাঁড় করিয়েছেন, তারা দেখেছেন কীভাবে দেশের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
“আজকে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, আমাদের এই বিশ্বাসের বন্ধনকে আরও যেন সুদৃঢ় করতে পারি। আমার চেষ্টা থাকবে, যুব সমাজ যেন ‘আই হেইট পলিটিক্স কালচার’ থেকে বেরিয়ে এসে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে নিজেকে দেশের কাজে নিয়োজিত রাখে।”
ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ভাবমূর্তি সঙ্কটে থাকা যুবলীগের শনিবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে শেখ ফজলে শামস পরশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে ৫১ বছর বয়সী পরশ এতদিন রাজনীতি থেকে দূরেই সরিয়ে রেখেছিলেন নিজেকে। শিক্ষকতা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির এই সাবেক ছাত্র।
তার ছোট ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস ইতোমধ্যে রাজনীতিতে এসে সংসদ সদস্য হয়েছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী সংগঠনের নেতাও হয়েছেন।
ইংরেজির অধ্যাপক পরশ নিয়ে যুবলীগের দায়িত্ব, যে সংগঠনের নেতারা কয়েক মাস ধরে তুমুল আলোচনায় ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায়
ইংরেজির অধ্যাপক পরশ নিয়ে যুবলীগের দায়িত্ব, যে সংগঠনের নেতারা কয়েক মাস ধরে তুমুল আলোচনায় ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায়
এতদিন কেন রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন সেই কথা তুলে ধরেন পরশ: “ছোট বেলায় আমি ও আমার ভাই তাপসের (শেখ ফজলে নূর তাপস) কাছ থেকে রাজনীতি অনেক কিছু, বলতে গেলে সব কিছুই নিয়ে গেছে। সেজন্য আমি রাজনীতি থেকে অনেক দূরে ছিলাম।
“কারণ যে নেতা (বঙ্গবন্ধু) জাতির জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাকে যখন নির্মমভাবে হত্যা করেছে, নির্মমভাবে ষড়যন্ত্রকারীরা হত্যা করতে পারল, আশাহত হই। এটাই স্বাভাবিক।”
পরশ-তাপসের বাবা শেখ মনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যুবলীগের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গড়ে তুলেছিলেন ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ’। তিনি সংগঠনটির দায়িত্ব দেন নিজের ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ মনিকে। দুই বছরের মাথায় কংগ্রেসে শেখ মনিই যুবলীগের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। “আমিসহ যুবলীগের সকল কর্মীদের একটাই দায়িত্ব, আমরা আমাদের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার এই কর্মসূচি সফল করার জন্য কাজ করব।”
পরশ বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান নয়, কর্মী হিসেবে পরিচিত হতে চান তিনি। “আমাদের সবার একটাই পরিচয় হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের কর্মী।”
আলমগীর কবির