মিডিয়ায় রূপকথার গল্প

সুন্দরী আর দীর্ঘাঙ্গী গ্ল্যামারাস তরুণী মম জামান। ডাকনাম রূপকথা। দেশীয় টিভি মিডিয়ার নতুন প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী। কাজ করছেন অল্প কিছুদিন ধরে। কিন্তু এরই মধ্যে নিজের প্রতিভার দ্যুতি ছড়াতে সক্ষম হয়েছেন এই প্রতিশ্রুতিশীল তরুণী। শোবিজ মিডিয়ায় উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রামের এই সুদর্শনা রূপকথা নামে পরিচিত। এই নামটি দিয়েছিলেন তার প্রয়াত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন। তিনি ছিলেন এমবিবিএস ডাক্তার। বাবার স্বপ্ন ছিল তার আদরের ছোট মেয়ে রূপকথা সরকারী চাকুরীজীবী হবেন। কিন্তু শৈশবে রূপকথার শখ ছিল একজন টিভি তারকা হওয়ার। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রূপকথা এমনটাই জানালেন। তিনি জানান, অনেকটা শখ করে টিভি নাটকে অভিনয় আর মডেলিংয়ে আসা। কিছুটা নেশাও ছিল এখানে কাজ করার। তবে মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগে একজন মেধাবী ছাত্রী হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বিদ্যালয় থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন রূপকথা। নিজের মিডিয়ায় কাজ করা প্রসঙ্গে বলেন আলোচিত এই মডেল অভিনেত্রী।
রূপকথা বলেন, শখ আর নেশার বশে অনেকটা হুট করেই আমার মডেলিং ও নাটকে অভিনয় করা। যদিও এক্ষেত্রে পারিবারিক সমর্থন কিম্বা বিরোধিতা কোনটাই নেই। একান্তই নিজের ইচ্ছেতেই এখানে কাজ শুরু করা। রূপকথা জানান, “স্মার্ট সুপার বার” এর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিংয়ের মাধ্যমে তার শোবিজ যাত্রা শুরু। বিজ্ঞাপনচিত্রটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন দীপু শিকদার।
এরপর তিনি মডেলিং থেকে নাট্য অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। অভিনীত প্রথম নাটক “পুঁটি মাছের ভালোবাসা”। এটির পরিচালক ছিলেন সোহেল রানা। রূপকথা জানান, এরপর তিনি সুজন শাহরিয়ার পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “দ্য পিকচার” এ অভিনয় করেন। “কষ্ট” নামের আরও একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অভিনয় করেছেন। সোহেল রানা পরিচালিত “মফিজ টিভি” নামের একটি নাটকেও তিনি অভিনয় করেন। অন্যদিকে দীপু শিকদারের নির্দেশনায় “রেস ব্র্যান্ড হট ওয়াটার শাওয়ার” এর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিং করেন। এছাড়া “কুন্তল হেয়ার কেয়ার অয়েল” এর স্টিল বিজ্ঞাপনেও মডেল হয়েছেন রূপকথা।
নিজের নতুন কাজ সম্পর্কে আগুয়ান এই মডেল ও টিভি অভিনেত্রী বলেন, চলতি সপ্তাহেই নতুন একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং করবো। নাম চূড়ান্ত না হওয়া এই নাটকটির পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিল। এটি একুশে টেলিভিশনে প্রচার হবে বলে জানান রূপকথা। তিনি জানান, আগামী মাসে আরও দুটি একক নাটকে তিনি অভিনয় করবেন। তিনি জানান, এই ধারাবাহিকটি ভিন্ন ভিন্ন গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি গল্প সাত পর্বে শেষ করা হবে।
কথায় কথায় রূপকথা বলেন, আমার নিজের এবং পরিবারের ইচ্ছে ছিল – আমি প্রথম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা হই। যদিও শৈশবে আমি নাচের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কারণ, আমি নিজে সংস্কৃতিমনা ছিলাম। কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না বলে নাচ নিয়ে আর বেশীদুর এগুইনি। তবে এখনও আমি ভালো নাচ পারি। বাসায় সময় সুযোগ পেলে নিজের মতো করে নাচের প্র্যাকটিস করি আমি।
শোবিজ মিডিয়া নিয়ে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী – এমন প্রশ্নের উত্তরে সদাহাস্য তরুণী রূপকথা বলেন, এখন পর্যন্ত আমি শখের বশেই মিডিয়ায় কাজ করছি। যদি কখনো শোবিজে ক্যারিয়ার গড়ে তুলি, তবে অবশ্যই জনপ্রিয় একজন টিভি তারকা হওয়ার স্বপ্ন দেখি। সেক্ষেত্রে আমি পরিকল্পনা মাফিক এগুবো। এখন তো আমি নতুন হিসেবে কাজ করছি, কাজ শিখছি আর এই জগৎটা ভালো করে বোঝার চেষ্টা করছি। তবে আমার পরিবারের সদস্যরা কিন্তু চায় – আমি সরকারী কর্মকর্তা হই।
শোবিজে স্থায়ী হলে চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন কী না জানতে চাইলে রূপকথার ঝটপট উত্তর – এই বিষয়ে হ্যাঁ বা না বলার সময় এখনও হয়নি। যদিও বিনোদনের বৃহৎ মাধ্যম হলো চলচ্চিত্র। আমি বেশ কয়েকবার চলচ্চিত্রের নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু আমি নবীন। এখনও কাজ শিখছি। তাছাড়া এখনও পেশাদার অভিনয় শিল্পী হইনি। যদি কখনো হই, তবে তখন এটা নিয়ে ভাবা যাবে। এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।
সবশেষে রূপকথা বলেন, টেলিভিশন মিডিয়ায় আমি নতুন হলেও আমি যাদের কাজ করেছি, তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। যারা আমার কাজ দেখেছেন, তারাও আমার অভিনয় প্রতিভার প্রশংসা করেছেন। আমার বিশ্বাস আছে – মিডিয়াতে নিয়মিত কাজ করলে অবশ্যই আমি নিজেকে একজন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যোগ্যতা আমি রাখি।
রোমান রায়