শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান-এর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গুণী নাট্যজন লাকী ইনাম। রাষ্ট্রীয় এই পদে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম কার্যদিবসে যোগ দেন সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। তার এই পদায়নে ব্যাপক আনন্দমুখরতা বিরাজ করছে দেশের নাট্যও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান-এর চেয়ারম্যান শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকী, সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুছ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একইভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি নাট্যকার মান্নান হীরা। এ ছাড়াও অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে অভিনন্দিত করে পোস্ট করেছেন।
নন্দিত এই নাট্যজন একাধারে অভিনয় শিল্পী, নাট্যকার, নির্দেশক, সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী এবং নাট্য শিক্ষক। কর্মমুখর অভিনয় জীবনে বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পেয়েছেন ব্যাপক প্রশংসা। গুণী এই অভিনেত্রী যেমনিভাবে টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ তেমনি মঞ্চেও। এযাবৎ তিনি অভিনয় করেছেন হুমায়ূন আহমেদের বহুব্রীহি, অয়োময় ও কোথাও কেউ নেইসহ আরো অন্য পরিচালকের অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে। তবে টেলিভিশন নাটকে কাজ করলেও শুরুটা হয়েছিলো তাঁর মঞ্চের মাধ্যমেই। ১৯৭২ সালে মঞ্চে অভিনয় জীবন শুরু করেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে। এই দলের হয়ে মঞ্চে তিনি প্রথম অভিনয় করেন ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে। তার বিখ্যাত কিছু চরিত্র ছিল শরমার ‘কণা’, নুরুলদিনের সারাজীবন এ ‘আম্বিয়া’, বহুব্রীহিতে ‘জনাবা ইশা’, আওময়তে ‘বারা বউ’। মঞ্চে তিনি নির্দেশনা দিয়েও সৃজন-মননের মুন্সিয়ানা দেখান। তার নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে অন্যতম হলো- ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’, ‘শারমা’, ‘প্রাগৈতিহাসিক’, ‘সেইসব দিনগুলি’, ‘বিদেহ’, ‘পুষি বিড়াল ও একজন প্রকৃত মানুষ’ এবং ‘মুক্তির উপায়’। একইভাবে টিভি মিডিয়ায় পরিচালনা করেছেন বেশকিছু ধারাবাহিক নাটক। তার মধ্যে ‘আমাদের আনন্দ বাড়ি’ নাটকটি অন্যতম।
নাট্যশিল্পে অবদানের স্বীকৃতিসরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে চলতি বছর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। এর আগে মঞ্চে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ১৯৮৪ সালে পেয়েছেন ‘এওয়ার্ড অব অনার’ পুরস্কার এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে পেয়েছেন ‘শিল্পকলা পদক ২০১৪’। এ ছাড়াও ‘সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মারক সম্মাননা ২০১৭’সহ বহু পুরস্কার-সম্মানায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।
লাকী ইনামের জন্ম ১৯৫২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। বাবা-মা দুজনেই ছিলেন শিল্পের প্রতি অনুরাগী। আর তাই ছোটবেলাতেই শিখেছেন নাচ ও গান। পাশাপাশি শিখেছেন ভরত নাট্যম, কত্থক ও মণিপুরী নৃত্য। বাবা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে লাকীর ছোটবেলা কেটেছে বিভিন্ন জেলা শহরের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির মাঝে।
সেই প্রভাবই পড়েছে তার নাট্যজীবনেও। সেজন্যই হয়তো মঞ্চ হোক আর টেলিভিশন দু’মাধ্যমেই তিনি দেখিয়েছেন বৈচিত্র্যময় অভিনয় প্রতিভা। গুণী এই অভিনয় শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সভাপতি হিসেবে।
তিনি দাম্পত্য সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন আরেকজন গুণী অভিনেতা ইনামুল হককে। তাদের দুটি মেয়ে হৃদি হক এবং প্রৈতি হক। বড় মেয়ে হৃদি হকও একাধারে অভিনয় করছেন মঞ্চ এবং টেলিভিশনে। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করে চলেছেন নির্দেশনার কাজটিও। এককথায় সবদিক থেকেই সফল গুণী অভিনেত্রী লাকী ইনাম।
রোমান রায়