গণেশ বিসর্জন ও মহরমের শোভাযাত্রা

একদল মানুষ কাঁধে গণেশ-গৌরীকে নিয়ে বিসর্জনে যাচ্ছিলেন। পাশের রাস্তা দিয়ে আর এক দল যাচ্ছিলেন তাজিয়া নিয়ে। মাঝপথে মুখোমুখি দেখা। পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়া নয়, দুই শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষ একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করলেন। জানালেন উত্সবের শুভেচ্ছা। সম্প্রীতির এমনই ছবি ধরা পড়ল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দাদর নগর হাভেলির রাজধানী সিলভাসাতে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার দু’পাশ দিয়ে যাচ্ছে দু’টি মিছিল। একদিকে গণেশ-গৌরী বিসর্জনের শোভাযাত্রা বেরিয়েছে। অন্যদিকে মহরমের তাজিয়া নিয়ে বেরিয়েছেন এক দল মানুষ। মাঝে রয়েছে রাস্তার ডিভাইডার, ডিভাইডারের উপর লাগানো রয়েছে গাছ। সেই গাছের উপর দিয়েই দুই দল মানুষ একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। স্থানীয়রা সম্প্রীতির এই ছবি মোবাইলের ক্যামেরাবন্দি করেন। তারপর ছড়িয়ে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই ছবি সিলভাসার শহিদ চকে ১০ সেপ্টেম্বর তোলা হয়। এলাকার দুই সম্প্রদায়ে যুবক, যাঁরা একে অপরের পরিচিত তাঁরা দুই শোভাযাত্রা থেকে এগিয়ে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান। গৌরী-গণেশের বিসর্জন যাত্রা শেষ হয় দমন গঙ্গা নদীতে। আর তাজিয়ার শোভাযাত্রা যায় জুম্মা মসজিদ পর্যন্ত।
মুসলিম সমাজের নেতা আরিফ মেমনেরদাবি, এটি একটি সুন্দর ছবি। কেউ একজন এটি ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছিলেন। তিনিও এই ছবি শেয়ার করেছেন। যে সময় এই ছবিটি উঠেছে সেই সময় তিনি সেখানেই ছিলেন বলে জানিয়েছেন আরিফ। সিলভাসায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইন্ডিয়ান সোশ্যাল প্রোগ্রেসিভ ট্রাস্টের কর্তা ধরমেশ পান্ডিয়া বলেছেন, এখানে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে খুবই সদ্ভাব রয়েছে। দুই স¤প্রদায়ের মানুষই একে অপরের উত্সবে অংশ নেন। আজ পর্যন্ত এখানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কোনও ইতিহাস নেই। বিশাল পান্ডিয়া নামে এক বছর পঁচিশের যুবক ছবিটি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তিনি সিলভাসা পুলিশে কনস্টেবল পদে কর্মরত। সে দিন শহিদ চকে তিনি ডিউটিতে ছিলেন।
অঞ্জন দাস