চলচ্চিত্রে অঞ্জনার ৪০ বছর

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সোনালী দিনের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অঞ্জনা তার অভিনয় জীবনের ৪০ বছর পূর্ণ করলেন। ১৯৭৬ সালের এই দিনে শামসুদ্দীন টগর পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’ ছবির মাধ্যমে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে আসেন। চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে তিনি একজন নামি নৃত্যশিল্পী ছিলেন। অঞ্জনা ২৩৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘পরিণীতা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। উল্লেখযোগ্য ছবি হলো- দস্যু বনহুর, গুনাই বিবি, পরিণীতা, অশিক্ষিত, গাংচিল, রাজবাড়ী, নূরী, মাটির মায়া, সেতু, সুখের সংসার, অন্ধবধূ, যাদুনগর, রূপালি সৈকত, বৌরানী প্রভৃতি। অঞ্জনার জন্ম ২৭ জুন ১৯৬৫। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সেতু (১৯৭৬), কিন্তু তার পর্দায় অভিষেক হয় দস্যু বনহুর (১৯৭৬) চলচ্চিত্র দিয়ে। অঞ্জনা তার অসাধারণ নৃত্য হৃদয়ছোঁয়া মনোমুগ্ধকর সাবলীল অভিনয় দিয়ে কোটি দর্শকের মনে জায়গা করে নেন। পরিণীতা ও রাম রহিম জন ছবির জন্য দুইবার বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন। ‘ফুলেশ্বরী’ নামে একটি চলচ্চিত্রও প্রযোজনা করেন তিনি। তার একমাত্র ছেলের নাম মনি। ছোটবেলা থেকে নৃত্যের প্রতি তার আগ্রহের কারণে তার বাবা-মা তাকে নৃত্য শিখতে ভারতে পাঠান। সেখানে তিনি ওস্তাদ বাবুরাজ হীরালালের অধীনে নাচের তালিম নেন এবং কত্থক নৃত্য শিখেন। নৃত্যে দুইবার জাতীয় পুরস্কারও লাভ করেন তিনি।
বর্তমানে অঞ্জনা চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য ও সমাজসেবা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিগগিরই নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণে আসছেন তিনি। চলচ্চিত্রে ৪০ বছর অতিবাহিত করলেন এই অভিনেত্রী। তার এই ৪০ বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রে আমার ৪০ বছর পূর্ণ হলো। প্রথম চলচ্চিত্রেই প্রধান এবং একক নায়িকা হিসেবে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিলো। বিখ্যাত পরিচালক প্রযোজক কিংবদন্তী সফল চিত্রনায়ক সোহেল রানার হাত ধরে। প্রথম ছায়াছবি” রোমেনা আফাজের বিখ্যাত রহস্য উপন্যাস। (দস্যু বনহুর) প্রথম ছবিই সুপার বাম্পার ব্যাবসা করে। তারপর আর আমাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সুদীর্ঘ এই চলচ্চিত্র জীবনে অবশ্যই সবকিছু প্রাপ্তি হয়েছে। না পাওয়ার কিছুই নেই। সব লিজেন্ডারি নায়কদের সাথে প্রাধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক ছায়াছবিতে অভিনয়ের পারদর্শিতা দেখাতে পেরেছি। সেরা প্রাপ্তি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আন্তর্জাতিক পুরস্কার, একাধিকবার জাতীয় স্বর্ণপদক, বাচসাস পুরস্কার, সহ অসংখ্য পুরস্কার। আর আমার প্রিয় দর্শকের ভালোবাসা যাদের জন্যে আমি অঞ্জনা হতে পেরেছি। যোগ করেন অঞ্জনা।তিনি বলেন, আমি চীরকৃতজ্ঞ আমার প্রানের চলচ্চিত্রের সকল পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনায়ক, চিত্রনায়িকা এবং যে সকল সহশিল্পী কলাকুশলীরা আমার সাথে অভিনয় করেছেন সবার প্রতি।
রোমান রায়