ঈদের ছুটিতে পর্যটকশূন্য বান্দরবান

ঈদের লম্বা ছুটিতেও পর্যটকদের ভিড় নেই বান্দরবানের দর্শনীয় স্থানগুলোতে। রমজানের ঈদের পর কোরবানির ঈদের লম্বা ছুটিতেও আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিখ্যাত বান্দরবান জেলায়।
পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, নীলগিরি’সহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো অনেকটাই ফাঁকা। বৃষ্টির কারণে দর্শনীয় স্থানগুলোতে আশপাশের স্থানীয় ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতিও ছিলো কম। ঈদের লম্বা ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটন ব্যবসা জমে না ওঠায় হতাশ আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-গেস্টহাউজসহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জেলা বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, চিম্বুক, নীলগিরি, নীলদিগন্ত, শৈলপ্রপাত, রিজুকঝর্ণা, কিংবদন্তী বগালেক, নাফাখুম, রেমাক্রি বড় পাথর, ডিম পাহাড় চূড়াসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও কোথাও পর্যটকের ভিড় নেই। পর্যটকদের বরণে সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করা হলেও আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-গেস্টহাউজ এবং রেস্টুরেন্টগুলো ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। অন্যান্য বছরগুলোর মত অগ্রিম রুম বুকিং ছিল না আবাসিক হোটেলগুলোতে। পর্যটকবাহী তিন শতাধিক ট্যুরিস্ট গাড়ির অধিকাংশই স্টেশনে বেকার বসেছিল। অলস সময় পার করেছে গাড়ির চালক-হেলপাররা।
আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে এবছর। অথচ পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সারাবছর আশায় থাকে ঈদে জমে উঠবে ব্যবসা। কিন্তু বন্যা, পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের দ্ব›েদ্ব অপহরণ, হত্যা, গুম, গুজব এবং ডেঙ্গুর আতঙ্কে বিরূপ প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে।
পর্যটন স্পটগুলোতে কিছু পর্যটক ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার লোকজনদের সংখ্যাই ছিল বেশি। পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, পর্যটকদেও জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি জেলা হচ্ছে বান্দরবান। পর্যটকদের ভ্রমণে কোথাও কোনো ধরণের ঝুঁকি নেই। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম।
অঞ্জন দাস