টিএসসিতে ধর্ষণবিরোধী মূকনাট্য ‘জম্বি’

জম্বি-মানে জীবন্ত লাশ। ভৌতিক ছবি যারা দেখেন তাদের কাছে নামটি দারুণ পরিচিত। পৃথিবীর নামীদামী প্রায় প্রতিটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিই এই বিষয়টি নিয়ে নির্মাণ করেছে চলচ্চিত্র। এবার ধর্ষণবিরোধী এক সচেতনতামূলক মাইম পরিবেশনায় সেই ‘জম্বি’-কে নিয়ে এলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘র আয়োজনে গত ৩০ জুলাই ‘জম্বি’ শিরোনামের মূকনাট্যটি পরিবেশিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি প্রাঙ্গণে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাইম অ্যাকশন জানায়, বাংলাদেশ ও আশেপাশের কয়েকটি দেশে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়া শিশু ও নারী ধর্ষণের উপর ভিত্তি করে এই গল্পের সঞ্চালনা। নাটকটির গল্পে বিকৃত মস্তিষ্কের কিছু লম্পট একজন অসহায় নারীকে গণধর্ষণ করে। বছর খানেক পরে মহিলাটির বাচ্চা হলে দুশ্চরিত্রা অপবাদ নিয়ে সে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হয়। গার্মেন্টসে কাজ করে সে বাচ্চা মেয়েটিকে বড় করে তুলতে থাকে। ৭ বছরের মাথায় সেই মেয়েটি একই লম্পট গ্যাংয়ের দ্বারা ধর্ষিত হয়। আগে থেকেই শারীরিকভাবে কিছুটা অস্বাভাবিক মেয়েটির শরীরে এবার বায়োলজিক্যাল তথা জিনগত পরিবর্তন আসে। তার মাঝে একধরণের ভাইরাস উৎপন্ন হয়, সে জম্বি হয়ে উঠে।
তৎক্ষণাৎ তার ধর্ষকদের কামড়ালে তারাও জম্বি হয়ে যায়। এই জম্বিরা সম্ভাব্য ধর্ষক, প্রকাশ্য কিংবা গোপন ধর্ষকদের শনাক্ত করতে পারে এবং তাদেরকে কামড়ায়, বাকিদের কোন ক্ষতি করেনা। আক্রান্ত ব্যক্তিটি জম্বি হয়ে সে আবার অন্যদের কামড়ায়। এভাবে জম্বিরা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অফিস, পার্ক, গণপরিবহণ, সীমান্ত সবখানে! সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও বাদ যায়না। জম্বি আক্রমণ এতটাই ভয়াবহ রুপ ধারণ করে যে তা নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হয়, ঘোষণা করতে হয় জরুরী অবস্থা। মূকনাট্যটির গল্প নির্মাণ এবং নির্দেশনা দিয়েছেন মীর লোকমান। তিনি বলেন, “এই মূকাভিনয় প্রযোজনাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একদমই ব্যতিক্রম। পরিবেশ থিয়েটারের ধারণা সংযোজিত হচ্ছে এই নির্বাক নাটকে। টিএসসির সমগ্র প্রাঙ্গণই মঞ্চ, দর্শকরাও অনুষঙ্গ। এই মাইম প্রযোজনা আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে যাবে, প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে যাবে।”
ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন, “এই মূকনাট্যটি যৌন নিপীড়ক এবং ধর্ষকদের জন্য বড় সতর্ক সংকেত। তাদের মহাপাপের বিচার অবশ্যম্ভাবী। বাংলাদেশের প্রতিটি অন্যায়-অবিচারের বিপরীতে এবং ন্যায়বোধের সাথে ডাকসু সবসময় সঙ্গী হবে।” পূর্ণাঙ্গ এ মূকনাট্যে অভিনয় করবেন ৪০-৬০ জনের মত মাইম শিল্পী।
অঞ্জন দাস