বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় শিল্পকলায় ‘মালহার উৎসব’

বর্ষার দিনে মেঘলা আকাশে রোদের দেখা না মিললেও,মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামছে অবিরত। শ্রাবণের অঝোরধারায় বৃষ্টিতে ভেজা এই রাজধানী। মুষলধারে বর্ষণ না থাকলেও সারাদিন থেকে থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ছন্দ ভিন্ন এক দ্যোতনা তুলেছিলো বাদলদিনের অনুরাগীদের মাঝে। আর বৃষ্টির সেই ছন্দ এসে মিশেছে শিল্পকলা একাডেমির শাস্ত্রীয় সুরের আসরে। বৃষ্টির ছন্দের সাথে শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের সুরের মিতালিতে অনবদ্য এক শৈল্পিক সন্ধ্যা উপভোগ করেছে রাজধানীর শিল্পানুরাগীরা। আর শিল্পীরাও রাগের খেলায় বর্ষাকে বরণ করে নিলেন সুরের অনিন্দ্যতায়। কণ্ঠসঙ্গীতের সাথে সরোদ, সেতার ও তবলার বিনিসুতোর বন্ধনে শিল্পকলায় ছড়িয়ে পড়ে সুরের সৌন্দর্য্য। মনোমুগ্ধ পরিবেশনার শৈল্পিকতায় মিলনায়তন প্লাবিত হয় সুরের বন্যায়। পিনপতন নীরবতার মাঝে থেকে থেকে করতালির বৃষ্টির মধ্য দিয়ে মঞ্চের শিল্পীদের প্রতি অভিনন্দনের ডালা ছুঁড়ে দেয় উপস্থিত সুরের সমঝদাররা। এমন চিত্রকল্পই চিত্রিত হয়েছিল শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হওয়া দু’দিনের ‘মালহার উৎসব’ এর উদ্বোধনী দিনে।
ভারতীয় হাইকমিশন,ঢাকার উদ্যোগে ও ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে গতকাল সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বসে দু’দিনের এই আসর। এতে অংশ নেয় ভারত ও বাংলাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের স্বনামধন্য শিল্পীরা।
শাস্ত্রীয় এই আসরের শুরুতেই বর্ষার রাগ ‘মালহার’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। মালহারের যত প্রকার রাগ আছে তার মধ্যে মিয়া-কি-মালহার অন্যতম। এই রাগ দিয়ে বৃষ্টিকে পৃথিবীর বুকে বরণ করে নেন শিল্পীরা। আর শিল্পকলাতেও সুরের রাগে এবং বাদনের অনন্যতায় বর্ষাকেই আবাহন করলেন শিল্পীরা।
এরপর মিয়া কি মালহার রাগে কণ্ঠের সুধা সমগ্র মিলনায়তনে ছড়িয়ে দেন ভারতের শিল্পী শায়নি সিন্ধে শেঠি। শুরুতেই তিনি বিলম্বিত এক তালে খেয়াল পরিবেশন করেন। এরপর ত্রিতালে মধ্যলয়ে ঠুমরি পরিবেশন করেন। বিলম্বিত একতালে কন্ঠসঙ্গীত ‘সহেলী সাঁঝ ভইলী’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মঞ্চ থেকে নামেন এই শিল্পী। এই সুরের পাখির সুরের সুধা আকণ্ঠ পান করে ‘ওয়ান মোর, ওয়ান মোর’, আবেদনে এসময় গোটা মিলনায়তনে প্রতিধ্বনিত হয় সুরের জয়ধ্বনি। পরের পরিবেশনায় সেতারে বর্ষার রাগ তুলে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ তুলে ধরেন ভারতীয় প্রখ্যাত পন্ডিত কুশল দাস। তার সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন আরেক প্রখ্যাত পন্ডিত শুভংকর ব্যানার্জি।
সমাপনী সন্ধ্যায় কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ এবং ভারতের শিল্পী পন্ডিত দেবজ্যোতি বোস। শিল্পীদ্বয়ের সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করবেন শুভংকর ব্যানার্জি।অনুষ্ঠানে উপবিষ্ট ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস। দু’দিন ব্যাপী এই উৎসবটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
রোমান রায়