আমি হতাশ হয়েছি-অঞ্জনা

চলচ্চিত্র বর্তমানে ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলচ্চিত্র নির্মাণেও আছে নানান প্রতিবন্ধকতা। অর্থের যোগান হলে গল্পের অভাব, গল্প পেলে শিল্পী সংকট, শিল্পী পেলে লোকেশন সংকট। এসবের মধ্য দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এসবের মধ্যে নির্মাতারা শিল্পীদের নিয়ে বিরক্ত বেশি। নির্মাতাদের মুখে প্রায়ই শোনা যায়-‘শিল্পী নেই, কাকে নিয়ে কাজ করবো?’ ওদিকে চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এমন নায়ক-নায়িকারাও বেকার। তারপরও নির্মাতারা শিল্পী খুঁজে পাচ্ছেন না! নির্মাতারা এক বাক্যে বলে দেন, ‘বর্তমানে কারো সিনেমাই চলছে না। তাছাড়া শিল্পীরা যে পরিমাণ পারিশ্রমিক আর কন্ডিশন দেন তাতে কাজ করার সুযোগ থাকে না!’ নির্মাতাদের এমন হতাশাজনক মন্তব্যে যথেষ্ট যুক্তিও খুঁজে পাওয়া যায়। ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অবস্থান ধরে রেখেছেন। স্বাভাবিক কারণেই তার পারিশ্রমিকও সবার চেয়ে বেশি। যদিও বিভিন্ন সময় তার পারিশ্রমিকের টাকার অঙ্ক নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে। বর্তমান চলচ্চিত্রের মার্কেটের কথা চিন্তা না-করেই অনেকে পারিশ্রমিক হাঁকেন আকাশচুম্বি। সম্প্রতি শরিফুল রাজের পারিশ্রমিক নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি। এছাড়া আরেফিন শুভ, সিয়ামের পারিশ্রমিকও কম নয়।  অন্যদিকে নায়িকাদের পারিশ্রমিকের গরম তাদের বিশেষ সফরেই অনুমান করা যায়। যদিও দেশের অধিকাশং শিল্পী এখন অলস সময় পার করছেন।  বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অঞ্জনা রহমান শিল্পীদের পারিশ্রমিক নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। বেশ কিছুদিন ধরেই সিনেমা পরিচালনা ও প্রযোজনা করতে চাচ্ছেন। সকল প্রস্তুতি শেষ করে শিল্পী নির্বাচন করতে গিয়ে তাকে পরতে হয় বিপাকে। দেশের শীর্ষ শিল্পীসহ অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে হতাশ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অঞ্জনা রহমান বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিলো সিনেমা নির্মাণ করবো। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কিন্তু শিল্পীদের পারিশ্রমিকের কথা শুনে আমি হতাশ হয়েছি। বর্তমানে চলচ্চিত্রের মার্কেট কেমন তা সবারেই জানা। একজন শিল্পী এত পারিশ্রমিক নিলে কোনোভাবেই সিনেমা লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়। তাছাড়া আমি চলচ্চিত্রের একজন সিনিয়র শিল্পী, আমার কাছে এত পারিশ্রমিক হাঁকায় তাহলে নতুন প্রযোজকের কাছে তারা কত টাকা পারিশ্রমিক চান? সেটা আমাকে ভাবায়। এসব কারণেই আমাদের সিনেমা পিছিয়ে আছে।’ অঞ্জনা আরো বলেন, ‘আরো কিছুদিন দেখবো। তারপর সিনেমার প্রযোজনা ও পরিচালনা থেকে সরে আসবো। আমি খুবই হতাশ হয়েছি।’ শিল্পীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পটাকে বাঁচাতে এখন পারিশ্রমিকের কথা না ভেবে ভালো ভালো কাজ করে যেতে হবে।’ ‘কোন শিল্পীর দু-একটা সিনেমা একটু ভালো গেলেই তারা পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে তারা কাজ হারান। সুপারস্টার হতে পারেন না।’ যোগ করেন অঞ্জনা। চলচ্চিত্রে কাজ না করলেও এ অঙ্গনের মানুষের পাশে বরাবরই অঞ্জনাকে দেখা গেছে। নেতৃত্বে আছেন শিল্পী সমিতির। 

মোহাম্মদ তারেক