চঞ্চলের স্ত্রী মনামী ঘোষ : আয়োজনে সৃজিত

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনের বায়োপিক নির্মাণ করছেন কলকাতার গুণী পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। কয়েক দিন আগে জানা যায়, ‘পদাতিক’ শিরোনামে এ সিনেমায় মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করবেন বাংলাদেশের চঞ্চল চৌধুরী। এবার জানা গেলো, মৃণাল সেনের স্ত্রী গীতা সেনের চরিত্রে অভিনয় করবেন কলকাতার মনামী ঘোষ। কয়েক মাস আগে পাটের তৈরি শাড়ি পরে ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়েছিলেন মনামী। গীতা সেনের চরিত্রে সেই মনামী ঘোষের অভিনয় করার খবরটি নিশ্চিত করেছেন ‘পদাতিক’ সিনেমার প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান। মনামী ঘোষ বলেন, ‘সৃজিতদার সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। সৃজিতদা তার অফিসে আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। ওখানে গিয়ে সব কিছু শোনার পর নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এতটাই আনন্দিত ছিলাম যে, শুধু নাচ করাটাই বাকি ছিল! তবে ভয়ও পাচ্ছি। কারণ সৃজিতদা আসলে খুব বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।’ গীতা হয়ে ওঠার কাজ শুরু করেছেন মনামী। এ বিষয়ে এই অভিনেত্রী বলেন—‘সৃজিতদা একটি ভিডিও ক্লিপ দিয়েছেন, সেখানে গীতা সেনকে অল্প সময়ের জন্য দেখা যায়। তা ছাড়া তার বেশ কিছু সাক্ষাৎকার রয়েছে; যেগুলো দেখছি।’ সিনেমাটিতে গীতা সেনের অল্প বয়স থেকে প্রৌঢ় বয়স পর্যন্ত তুলে ধরা হবে। আর সেটার জন্য মনামী ঘোষকে প্রস্থেটিক মেকআপ নিতে হবে বলেও জানা গিয়েছে। চঞ্চল চৌধুরী ও মনামী ঘোষের সঙ্গে সৃজিত মুখার্জির এটি প্রথম কাজ। আবার মনামী-চঞ্চলও প্রথমবার জুটি বেঁধে অভিনয় করতে যাচ্ছেন এই সিনেমায়। এর আগে চঞ্চল চৌধুরীকে মৃণাল সেনের চরিত্রে নির্বাচন করার কারণ ব্যাখ্যা করে সৃজিত মুখার্জি বলেন— ‘প্রথমত দু’জনের মুখের মিল আছে, সেটা কাকতালীয়। কিন্তু মৃণালবাবুর মতোই চঞ্চলের চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত ধারালো এবং সজাগ। তাছাড়াও মৃণালবাবুর রাজনীতি চেতনা, তার যাপন এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও চঞ্চলের প্রচুর মিল। এটাও কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু মিলটা রয়েছে।’ এ সিনেমায় মৃণাল সেনের ব্যক্তিগত এবং পরিচালনার জীবন বেশি থাকবে। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত মৃণাল সেনের নির্মিত কলকাতা ট্রিলজি সিনেমার অনেকটা জুড়ে থাকবে। সৃজিত মুখার্জি মৃণাল সেনের জীবনী নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। লকডাউনের সময়ে চিত্রনাট্যও রচনা করে ফেলেছিলেন তিনি। পরে সিনেমা বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। স্বভাবতই সিরিজের তুলনায় দৈর্ঘ্য কমাতে হয়েছে। সৃজিতকে সাহায্য করেছেন মৃণাল সেনের পুত্র কুণাল সেন। যাকে মৃণাল ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করতেন। কুণাল সৃজিতকে সিনেমাটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বায়োপিকটির শুটিং শুরুর পরিকল্পনা করেছেন পরিচালক।

মোহাম্মদ তারেক